রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট শুধু ভারতেই নয়, দেশের বাইরে গেলে কোথাও খাবার-জল খান না।
.jpeg.webp)
পুতিন কেবলমাত্র তাঁর রাঁধুনিদের তৈরি করা রাশিয়ান স্যালাড ও টিভোরোগ খেয়েছিলেন।
শেষ আপডেট: 4 December 2025 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশের বাইরে গেলে তাঁর সঙ্গে যায় পুরোদস্তুর রান্নাঘর ও রুশ রাঁধুনিদের লস্কর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রুশ প্রেসিডেন্টের আইএল-৯৬ বিমান যখন দিল্লিতে নামবে তখন তাতে করেই আসবে রাশিয়ান টিভোরোগ (চিজ), রাশিয়ান আইসক্রিম এবং সেদেশের বোতলের জল। এসবই ওই বিমানের পৃথক একটি কম্পার্টমেন্টে করে বেঁধেছেদে আনা হবে।
না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট শুধু ভারতেই নয়, দেশের বাইরে গেলে কোথাও খাবার-জল খান না। তিনি সেসব সঙ্গে করে নিয়ে যান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এবারেও ভারতীয় খানা তিনি মুখে তুলবেন না। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে যখন পুতিন ভারতে এসেছিলেন, তখনও মুম্বইয়ের তাজ হোটেলের একটি তলা নিয়ে নিয়েছিল রাশিয়ার Russian Presidential Security Service (FSO)। গোয়ায় ২০১৮ সালে ভারত-রুশ দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনেও রাশিয়ার শেফরা হায়দরাবাদ হাউসের রান্নাঘরে তাদের আনা স্টোভ সেটআপ করে নিয়েছিল।
সংবাদ সূত্রে জানা গিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্টের আপ্যায়ণে বিরিয়ানি ও গলৌটি কাবাব রান্না হয়েছিল রাষ্ট্রপতি ভবনে। কিন্তু পুতিন কেবলমাত্র তাঁর রাঁধুনিদের তৈরি করা রাশিয়ান স্যালাড ও টিভোরোগ খেয়েছিলেন। ২০২২ সালে উজবেকিস্তানের সমরখন্দে এসসিও সম্মেলনের পর উজবেক প্রেসিডেন্ট পুতিনকে খাওয়ানোর আমন্ত্রণ করলেও রুশ প্রেসিডেন্ট তা নাকচ করে দেন।
ক্রেমলিন সূত্র জানিয়েছে, বাইরে খাবার প্রেসিডেন্টের সহ্য হয় না। তিনি স্পেশাল ডায়েট মেনটেইন করে চলেন। এছাড়াও নিরাপত্তার খাতিরে বাইরে খাওয়া তাঁর মানা। আমরা তাঁর জন্য কেবলমাত্র নিজের দেশের খাবার তৈরি করে দিই।
ঠিক তা নয়। প্রাক্তন এফএসও অফিসার আন্দ্রেই সোলদাটোভ তাঁর বইতে লিখেছেন, ২০০১ সাল থেকে পুতিনের সঙ্গে যায় একটি পোর্টেবল ফুড ল্যাবরেটরি। এই ল্যাবে খাবারের আগে প্রতিটি ডিশ স্পেক্ট্রোমিটারে এবং রাসায়নিক প্রয়োগে পরীক্ষা করা হয়। ২০১৭ সালে ফ্রান্সের ভার্সাইয়ের প্রাসাদে এই একই ঘটনা ঘটেছিল। প্রসিদ্ধ ফরাসি শেফরা পুতিনের জন্য ক্রোসেঁ এবং ফোয়ি গ্রাস রান্না করলেও পুতিন খেয়েছিলেন তাঁর সুরিমি স্যুপ ও টিভোরোগ।
পুতিনের নিরাপত্তা বাহিনী কোনও দেশেরই খাবার কিংবা জলের উপর ভরসা রাখে না। রাশিয়া টুডে-র খবর অনুযায়ী, পুতিনের খাবার আসে মস্কোর বাইরের একটি বিশেষ খামার থেকে। যেখানে দুধেল গরুকেও ২৪ ঘণ্টা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। যার অর্থ ভারতীয় শেফরা পুতিনের আতিথেয়তায় যা রান্না করবেন তা কেবলমাত্র সাজানোর জন্য ও চিত্রসাংবাদিকদের ছবি তোলার জন্য।