Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ! মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি বিজেপির‘১৫ বছরের অচলাবস্থা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ!’ নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তায় তৃণমূল সরকারকে তোপ মোদীরঅভিষেক পত্নীকে টার্গেট করছে কমিশন! হোয়াটসঅ্যাপে চলছে নেতাদের হেনস্থার ছক? সরাসরি কমিশনকে চিঠি তৃণমূলেরIPL 2026: আজ আদৌ খেলবেন তো? ‘চোটগ্রস্ত’ বিরাটের অনুশীলনের ভিডিও দেখে ছড়াল উদ্বেগনৌকাডুবিতে ১৫ জনের মৃত্যু, বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচাল ইনস্টা রিল, ফোনের নেশাই এনে দিল নতুন জীবন!‘ভূত বাংলা’-তে যিশু সেনগুপ্তর আয় নিয়ে হইচই! ফাঁস হল অঙ্কপদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কার

Pahelgam: কাশ্মীরে ফের হিন্দু পর্যটকদেরই কেন টার্গেট করছে পাক জঙ্গিরা, ফন্দিটা কী?

আবার কাশ্মীরের পর্যটন অর্থনীতি ভেঙে পড়লে স্থানীয় যুবকদের ভারত বিরোধী মগজ ধোলাই দেওয়া সহজ হয়ে উঠবে। কাশ্মীরে যতদিন অশান্তি জিইয়ে রাখা যাবে, ততদিনই ইসলামাবাদে সরকার নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবে।

Pahelgam: কাশ্মীরে ফের হিন্দু পর্যটকদেরই কেন টার্গেট করছে পাক জঙ্গিরা, ফন্দিটা কী?

মুহূর্তের স্বর্গের স্বাদ বদলে যায় নরক যন্ত্রণায়।

শেষ আপডেট: 23 April 2025 12:32

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর (Kashmir)। যাকে পৃথিবীর জন্নত বা ভূস্বর্গ বলা হয়। জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ে ধরে কিছুদূর এগলেই চোখে পড়বে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ শস্যখেত আর দূরে মেঘের কোলে চুমু খাওয়া পাহাড়শ্রেণি। শ্রীনগর ঢোকার মুখেই ডাল লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিকারা ও রঙচঙে হাউসবোট দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। শ্রীনগরের রাস্তা ছাড়িয়ে গাড়ির চাকা যখন গড়িয়ে গড়িয়ে চিনার গাছের জঙ্গল ভেদ করে গুলমার্গ-সোনমার্গ কিংবা পহলগামের (Pahelgam) দিকে এগিয়ে যায়, তখন যে কোনও পর্যটকেরই মনে হয়, এই স্বর্গে মরেও শান্তি। কিন্তু তখনই যদি ছুটে আসে সত্যিকারে বুলেট। যে বুলেট তৈরি হয়েছে চিনে কিংবা আমেরিকার কারখানায়। যে বন্দুক থেকে বৃষ্টির মতো গুলি ঝরে পড়ছে সেগুলি একে ৪৭ অথবা একে ৫৬ (Kashmir Terror Attack)। তখন মুহূর্তের স্বর্গের স্বাদ বদলে যায় নরক যন্ত্রণায়।

ঠিক তেমনটাই ঘটেছিল মঙ্গলবারের জঙ্গি হানায়। বেশ কয়েক বছর ধরে জম্মু-কাশ্মীরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছে। আর তাতেই ঘুম ছুটেছে পাকিস্তানের। কারণ, পাক অধিকৃত কাশ্মীর আরও অনেক বেশি সুন্দর হলেও সেখানে পরিকাঠামোগত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটকের সংখ্যা হাতে গোনা। পাকিস্তান সরকারও নামে মাত্র কাশ্মীরের ওই অংশটুকু দখল করে রেখেছে, সেখানকার মানুষের জন্য পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রায় কিছুই হয়নি বললেই চলে। 

এদিকে, জম্মু-কাশ্মীর শান্ত থাকায় সেখানে দিনদিন পর্যটক সংখ্যা বাড়ছে। তার ফলে বেশ কয়েক বছর ধরে জম্মু-কাশ্মীরে পর্যটন শিল্প চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। যা এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অর্থনীতির মূল শিরদাঁড়া। একটি হিসাব বলছে, গতবছর ভূস্বর্গে ২৯ লক্ষ ৫০ হাজার পর্যটক সমাগম হয়েছিল। ২০২৩ সালে যা ছিল ২৭ লক্ষ ১০ হাজার এবং ২০২২ সালে ২৬ লক্ষ ৭০ হাজার পর্যটক ঘুরে গিয়েছেন কাশ্মীর। এ বছর তো এখন পুরোদমে পর্যটন মরশুম চলছে। তার মধ্যেই চলল জঙ্গি হানা। এবং এবারের লক্ষ্য সরাসরি পর্যটকরাই। মূলত হিন্দু পর্যটকদের টার্গেট করে হামলা চালায় জঙ্গিরা এমনটাই বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।

জঙ্গিদের মূল টার্গেট পর্যটকরাই কেন এবং কেনই বা তারা হিন্দুদের বেছে বেছে মেরেছে, এই প্রশ্নের কাঁটা গলায় আটকে গিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ জাতীয় নিরাপত্তা শিরোমণি অজিত দোভালের। সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, কাশ্মীর শান্ত এবং জঙ্গিপনাকে দমন করে ফেলার ক্রমাগত কেন্দ্রীয় দাবি, কাশ্মীর পর্যটনের ব্যাপক প্রচার-বিজ্ঞাপন, রোড শো, ডিজিটাল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্যটন শিল্পের প্রচারে দিনদিন ভ্রমণপিপাসুদের স্বপ্নের গন্তব্য কাশ্মীর চনমনে হয়ে উঠেছিল। যার ফলে সেখানকার সাধারণ মানুষ হাসিখুশি জীবন কাটানো অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন। আর তাতেই জনবিচ্ছিন্ন পাক জঙ্গিদের বিষফোঁড়া হয়ে ওঠে।

একেবারে গোড়ার দিকে কাশ্মীরে মাথাচাড়া দেওয়া বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলি পৃথক রাষ্ট্রের দাবি তোলে। তাদের সঙ্গে অন্ধকারে হাত মিলিয়ে চলতে থাকে ছোটবড় প্রায় সবকটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলিই। ১৯৪৭ সালে, ১৯৭১ সালে এবং কারগিল যুদ্ধে মুখ পোড়ার পর থেকে পাকিস্তান বিরাট প্রতিশোধের জন্য অনবরত চেষ্টা চালাতে থাকে। তাদেরই প্রত্যক্ষ অর্থ মদত ও ভারত বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে কাশ্মীরে। লাগাতার খুন-জখম, জঙ্গি হামলা চলতে থাকে। নিরীহ কাশ্মীরি যুবকদের এমনকী শিশুদেরও জঙ্গি তালিম দিয়ে সড়কপার করানো হয়। এভাবেই প্রায় তিন দশক ধরে রক্তের ভাসতে থাকে ডাল লেকের জল।

কাশ্মীরে পর্যটন ব্যবসাই একমাত্র পুঁজি নয়, এখানকার অর্থনীতির আরও যে ক্ষেত্রগুলি রয়েছে যেমন হস্তশিল্প, কাঠের কাজ, পশমি শাল, কার্পেট এবং বিদেশি মুদ্রা আনা আপেল ব্যবসা লাটে ওঠে। মাজা ভেঙে যায় রাজ্যের অর্থনীতির। কিন্তু, ক্রমাগত প্রচার ও জঙ্গি দমন অভিযানে সাধারণ মানুষ জঙ্গিদের প্রশ্রয় ও আশ্রয় দান বন্ধ করে দেন। তখন থেকেই খুব ধীরে ধীরে কাশ্মীরের জনতা বুঝতে পারেন যে, পাকিস্তানের প্ররোচনায় পা দেওয়া মানে ফাঁদে পড়া। শিক্ষার প্রসারে ও অন্যান্য কাজের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করায় কাশ্মীর যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। আর তাতেই পাকিস্তানের চর বাহিনী হাত কামড়াতে থাকে।

অবস্থার বদল ঘটে আমূলই বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে। সেখানে গৃহযুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতি হিন্দুদের উপর চরম নির্যাতনের ঘটনায় পাকিস্তানপন্থী ধর্মান্ধ তথাকথিত জেহাদিদের মধ্যে ফের একবার রক্ত ঘুলিয়ে উঠেছে। সে কারণে এদেশে নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়াতে পর্যটকদের টার্গেট করে জঙ্গিরা। এর আগে অ-কাশ্মীরিদের টার্গেট করে কিছু বিচ্ছিন্ন হামলা চালালেও এরকম বিরাট মাপের হামলা সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেনি। 

তার মূল কারণ হচ্ছে, কাশ্মীর থেকে পর্যটকদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি। সে কারণে তারা স্থানীয় মানুষদের লক্ষ্যবস্তু না করে হিন্দুদের বেছে নিয়ে গুলি করেছে। পাক জঙ্গিরা বেশ কিছুদিন ধরেই সাধারণ মানুষের সাহায্য পাচ্ছে না। একমাত্র ভয় দেখিয়ে ও পয়সার লোভ দেখিয়ে খাদ্য ও সাময়িক মাথা গোঁজার ঠাঁই জোগাড় করতে পারলেও স্থানীয় কাশ্মীরিরা শান্তি ও সমৃদ্ধির আশায় জঙ্গিসঙ্গ পুরোপুরি ত্যাগ করেছে। সে কারণেই পর্যটকদের মেরে ফের ভূস্বর্গকে ভয়ঙ্কর করে তোলার নোংরা খেলায় মেতেছে পাক জঙ্গিরা। কারণ আবার কাশ্মীরের পর্যটন অর্থনীতি ভেঙে পড়লে স্থানীয় যুবকদের ভারত বিরোধী মগজ ধোলাই দেওয়া সহজ হয়ে উঠবে। কাশ্মীরে যতদিন অশান্তি জিইয়ে রাখা যাবে, ততদিনই ইসলামাবাদে সরকার নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবে।


```