সেই বিতর্কেই কল্যাণ বলেন, “চার জঙ্গি ভারতে ঢুকে এত লোক খুন করল, আবার নির্বিঘ্নে পাকিস্তানে ফিরে গেল?

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 28 July 2025 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) নিয়ে উত্তাল সংসদে সোমবার কড়া ভাষায় কেন্দ্রকে তুলোধোনা করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ (Pahalgam Attack) জঙ্গি হামলার পর সেনার পাল্টা অভিযান নিয়ে চলছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আলোচনা। সেই বিতর্কেই কল্যাণ বলেন, “চার জঙ্গি ভারতে ঢুকে এত লোক খুন করল, আবার নির্বিঘ্নে পাকিস্তানে ফিরে গেল? বিএসএফ কোথায় ছিল? সিআরপিএফ বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই বা কী করছিলেন?” প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের গাফিলতির দায় সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ঘাড়ে চাপান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “১২৫ কোটি ভারতবাসী সেনার পাশে রয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় দেশ ক্ষতিগ্রস্ত।”
এর পরেই কল্যাণ নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদীকেও। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “ট্রাম্প যদি ভুল বলেন, তবে এক্স হ্যান্ডলে তা খণ্ডন করেননি কেন মোদীজি? মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে দাঁড়ালেই কি আপনার উচ্চতা কমে যায়, আর ৫৬ ইঞ্চির ছাতি ৩৬ ইঞ্চিতে নামিয়ে আনেন?”
অপারেশন সিঁদুর অভিযান শেষে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন কল্যাণ। লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি তুলনা টানেন ক্রিকেটের সঙ্গে। বলেন, “ব্যাটসম্যান যখন ৯৯ রানে দাঁড়িয়ে, তখন কি কেউ ইনিংস ঘোষণা করে? ওরাও তাই করল।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা তো ভেবেছিলাম পাকিস্তানকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য পুরো যুদ্ধটা জিতব। তাহলে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কেন? ঠিক সেই সময়ই কেন থেমে গেলেন প্রধানমন্ত্রী? আমরা কি নিজের সিদ্ধান্তে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছি, নাকি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের চাপে?”
কংগ্রেসের ডেপুটি লিডার গৌরব গগৈ, মণীশ তেওয়ারি, উদ্ধবপন্থী শিবসেনা, অরবিন্দ সাওয়ান্ত, পহেলগাম ঘটনার জনয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। সকলেই প্রশ্ন তোলেন জঙ্গিরা সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকল কী করে এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন লোকসভার বিরোধী নেতারা।
সংসদে সোমবার সকাল থেকেই ছিল প্রবল উত্তেজনার আবহ। বিরোধীদের তুমুল বিক্ষোভের কারণে একাধিকবার লোকসভা অধিবেশন মুলতুবি করতে বাধ্য হন স্পিকার ওম বিড়লা। দুপুর ১২টায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের ভাষণ দিয়ে আলোচনার সূচনা হওয়ার কথা থাকলেও, বিরোধী সদস্যদের হইচইয়ে তা সম্ভব হয়নি।
স্পিকার বিরক্ত হয়ে প্রশ্ন করেন, “আপনারা সত্যিই আলোচনা চান তো?” কিন্তু শোরগোল থামেনি। প্রথমে অধিবেশন মুলতুবি হয় দুপুর ১টা পর্যন্ত, পরে আরও এক ঘণ্টার জন্য।
প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল জঙ্গি হামলায়। সেনার পাল্টা অভিযান 'অপারেশন সিঁদুর' চালিয়ে একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ভারত। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে এই বিতর্ক। তবে সরকারের দায় এড়ানোর চেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর নীরবতাই সংসদে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।