
শেষ আপডেট: 11 March 2024 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিমোর্ট কাজই করছে না। এদিকে টিভি দেখতে না পেয়ে অস্থির প্রধানমন্ত্রী। না দেখতে পাচ্ছেন খবর, না নিজের পছন্দের গুজরাতি কিছু চ্যানেল। প্রধানমন্ত্রীর ঘরে টিভি চলছে না, এ কী চাট্টিখানি কথা। হন্তদন্ত গেস্ট হাউসের মালিক এসে জোড়হাতে ক্ষমা চাইছেন। তিনিও চেষ্টাচরিত্র করে টিভি চালাতে না পেরে শেষে খবর দিলেন মেকানিককে। এলাকায় টিভি সারানোর এক নম্বর মেকানিক বিট্টু দত্তের ডাক পড়ল প্রধানমন্ত্রীর ঘরে।
কাজিরাঙায় সরকারি গেস্ট হাউসে টিভি নিয়ে বেশ ভুগতে হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। সূত্রের খবর, সারাদিন জঙ্গল সাফারি করে গেস্ট হাউসে এসে টিভিটা চালাতে গিয়েই দেখেন চলছে না। এদিকে পছন্দের শো-এর সময় হয়ে গেছে। তারপরেই গেস্ট হাউস জুড়ে হুলস্থূল পড়ে যায়। খবর যায় বিট্টু কাছেই।
বিট্টু দত্ত। কাজিরাঙায় ডিশ টিভি কো-অর্ডিনেটর ও টিভি অপারেটর। কোহরা রেঞ্জে ডিশ টিভি অপারেটর হিসেবেই কাজ করেন বিট্টু। টিভি সারানোতেও তিনি দক্ষ। গেস্ট হাউসে প্রধানমন্ত্রীর ঘরে টিভি সেট করে দেওয়ার দায়িত্বও ছিল তাঁর। বিট্টু বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর ঘরে যে ঢুকতে পারব তা স্বপ্নেও ভাবিনি। ডাক পেয়েই বুক দুরুদুরু করতে শুরু করে। এমন একজন ব্যক্তিত্বর সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে ভাবলেই ভয় লাগছিল।”
ডাক পেয়ে বিট্টু গেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঘরে। তিনি জানাচ্ছেন, এসপিজি কম্যান্ডোরা ঘিরে রেখেছিল গোটা গেস্ট হাউস। কাকপক্ষীও সেখানে ঢুকতে পারবে না, এতটাই কড়া নিরাপত্তা। গেস্ট হাউসের কর্মচারীদেরও দরকার ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ঘরের আশপাশের যাওয়া বারণ ছিল। তাঁকেও হাজারবার চেক করে তবেই ছাড়া হয় প্রধানমন্ত্রীর ঘরে।
বিট্টু বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘরে ঢুকতেই ভয়ে হাত-পা যেন ভেতরে সেঁধিয়ে যাচ্ছিল। তাঁকে দেখেন মোদী বলেন, “টিভি চালা দো”। মিনিট খানেকের মধ্যে নিজেকে সামলে টিভির গন্ডগোল সারিয়ে রিমোর্ট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের গুজরাতি চ্যানেল খুলে দেন বিট্টু। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ডিডি নিউজও খুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটু গল্পও করেন।
‘আমার প্রথমে খুব ভয় করছিল, বুক ধড়ফড় করছিল’, বলেছেন বিট্টু। তিনি বলেন, কাজিরাঙায় প্রধানমন্ত্রী ডিডি নিউজই দেখছিলেন সবসময়। মাঝেমধ্যে গুজরাতি চ্যানেল দেখছিলেন। তাঁর নাম-পরিচয়ও জানতে চান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আপ্লুত বিট্টু বলছেন, “এখনও ঘোর কাটছে না। সারারাত ঘুম হয়নি। এমন একজন ব্যক্তিত্বর সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি অভিভূত।”