হামলার পর থেকে সুলেমান শাহ গান্ডেরবল জেলায় লুকিয়ে ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। অবশেষে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সে এবং তার দুই সহযোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 July 2025 22:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরের পহেলগাম হামলার (Pahalgam Attack) মূল চক্রীকে খতম করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। গোপন সূত্রে পাওয়া খবর ও কয়েকদিন ধরে পরিকল্পনার পর সফল হয়েছে ‘অপারেশন মহাদেব’ (Operation Mahadev) অভিযান। সোমবার শ্রীনগরের কাছে দাচিগাঁও অরণ্যে সেনার অভিযানে নিহত হয় তিন লস্কর-ই-তইবা (LeT) জঙ্গি। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল হাশিম মুসা ওরফে সুলেমান শাহ।
এই জঙ্গি পাকিস্তান সেনার (Pakistan Army) এলিট ইউনিট স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের প্রাক্তন কমান্ডো, পরে লস্কর-ই-তইবা-য় যোগ দিয়ে হাফিজ সঈদের নেতৃত্বে কাশ্মীরে নাশকতার ছক কষছিল বলে দাবি গোয়েন্দাদের। হামলার পর থেকে সুলেমান শাহ গান্ডেরবল জেলায় লুকিয়ে ছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। অবশেষে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সে এবং তার দুই সহযোগীর মৃত্যু হয়েছে।
কীভাবে চলল 'অপারেশন মহাদেব'
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরেই নজরে ছিল জঙ্গিদের একটি দল। রবিবার রাত ২টো নাগাদ তারা সক্রিয় করে ‘টি-৮২ আল্ট্রাসেট’ নামে একটি হাই-এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেটির সঙ্কেত ধরেই জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত করেন সেনা আধিকারিকরা।
সোমবার সকাল ৮টায় ড্রোন পাঠিয়ে তোলা হয় প্রথম ছবি। আধ ঘণ্টা বাদে, ৯:৩০ নাগাদ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস বাহিনী ও প্যারা স্পেশাল ফোর্স জওয়ানরা অভিযান শুরু করেন মহাদেব পাহাড় ঘিরে। ১০টায় জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করার পর, ১১টায় শুরু হয় গুলির লড়াই।
মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রথম ধাক্কায় গুলিবিদ্ধ হয় তিন জঙ্গি। ১১:৪৫ নাগাদ একজন পালানোর চেষ্টা করলেও তাঁকে খতম করা হয়। দুপুর ১২:৩০ থেকে শুরু হয় ক্লিন-আপ অপারেশন। ১২:৪৫ নাগাদ তিন জঙ্গির দেহ শনাক্ত করা হয়।
জঙ্গি আস্তানায় মজুত ছিল বিপুল অস্ত্র
অভিযানের পরে জঙ্গিদের গোপন আস্তানার ছবি সামনে আসে। গভীর অরণ্যের ভিতরে থাকা ওই ঘাঁটি থেকে উদ্ধার হয়েছে কারবাইন, একাধিক একে-৪৭ রাইফেল, ১৭টি রাইফেল গ্রেনেড-সহ বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ।
গোয়েন্দারা মনে করছেন, ওই জঙ্গি দল কাশ্মীরে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু পহেলগাম হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী হাসিম মুসার খতমের মধ্য দিয়ে সে চক্রান্ত ধূলিসাৎ হয়ে গেল।