
প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 31 May 2024 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পদোন্নতি সাংবিধানিক অধিকার নয়। সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট। পদোন্নতির অধিকার নিয়ে একটি আবেদন জমা পড়েছিল সর্বোচ্চ আদালতে। তার রায়ে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে এক বেঞ্চ বলে, পদোন্নতি নিয়ে সংবিধানে স্পষ্ট কিছু বলা নেই।
আবেদনে সব সরকারি কর্মচারীর পদোন্নতিকে সাংবিধানিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার আর্জি জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট রায়ে বলেছে, পদোন্নতি সাংবিধানিক অধিকার নয়। এটা সম্পূর্ণত আইনসভা ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিষয়। কারণ সংবিধানের কোনও অংশে পদোন্নতির বাধ্যবাধকতা নিয়ে কিছু লেখা নেই।
সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতির অধিকারের বিষয় আইনসভা, কেন্দ্রের ক্ষেত্রে সংসদ এবং রাজ্য সরকারের ক্ষেত্রে বিধানসভার এক্তিয়ারে পড়তে পারে। সংসদ ও বিধানসভাই এ সংক্রান্ত আইন পাশ করার অধিকারী। আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে, সংবিধানে কোনও বিধি লিপিবদ্ধ নেই সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, ভারতে সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতির অধিকার নিয়ে কোনও সাংবিধানিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া নেই। কার পদোন্নতি হবে বা হবে না এ নিয়ে পর্যালোচনাও করবে না সুপ্রিম কোর্ট।
আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগগুলির নিজস্ব এক্তিয়ার আছে পদোন্নতির বিষয়ে। কাজের ধরন, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত পদোন্নতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী তারাই। তবে শীর্ষ আদালত এও বলেছে, এ ধরনের আবেদন একমাত্র বিবেচিত হতে পারে সংবিধানের ১৬ নম্বর ধারা অনুসারে। যেখানে সরকারি দফতরে সব কর্মীকে সমানাধিকারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সমদৃষ্টিতে সমান ব্যবহারের অধিকার প্রয়োগ করে আবেদন করা যেতে পারে।
সিনিয়রিটি কাম মেরিট এবং মেরিট কাম সিনিয়রিটির ধারণা নিয়েও সুপ্রিম কোর্ট বলেছে। সম্প্রতি একটি রায়ে প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ বলেছে, কর্মীদের পদোন্নতি হয়ে থাকে সাধারণত অভিজ্ঞতার নিরিখে। কারণ আশা করা হয় যে, একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। শুধু তাই নয়, এই পদ্ধতি কর্মক্ষেত্রে স্বজনপোষণের সম্ভাবনা রোধ করতে পারে।