স্মৃতি ইরানি জানালেন, কীভাবে কংগ্রেসি বাবা ও সংঘ সমর্থক মায়ের ছায়ায় বড় হয়ে তিনি বিজেপি-তে যোগ দেন। জানালেন, নীতিনির্ধারণে অংশ নেওয়ার ইচ্ছাই তাঁকে রাজনীতিতে এনেছে।

স্মৃতি ইরানি।
শেষ আপডেট: 24 July 2025 13:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিককার কথা নিয়ে গল্প করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানালেন, কীভাবে পরিবারে দুই বিপরীত রাজনৈতিক বিশ্বাসের প্রভাব থেকেও তিনি বিজেপি-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। জানালেন, তাঁর বাবা ছিলেন কংগ্রেস সমর্থক, আর মা ছিলেন আরএসএস ঘরানার। এই দুই মেরুর মধ্যেই বড় হয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে স্মৃতি বলেন, 'বাবা কংগ্রেসি, মা সংঘী!' এই বাক্যেই যেন ধরা পড়ে তাঁর পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ভারসাম্য, দুইই। তিনি জানান, তাঁর দাদু (মায়ের বাবা) প্রতিদিন দিল্লির আরকে পুরম-এর সেক্টর ৬-এর আরএসএস শাখায় হেঁটে যেতেন। তাঁর মতে, দাদুই ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক চেতনার মূল উৎস।
স্মৃতির বাড়ির পরিবেশ ছিল এমন যে, কেউ যদি সমাজসেবা করতে চায়, তাহলে সংঘের সঙ্গেই থাকুক। রাজনীতিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু স্মৃতি ইরানি বরাবরই নীতিনির্ধারণের অংশ হতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি বিজেপি-তে যোগ দেন।
স্মৃতি বলেন, তিনি যখন বিজেপি কর্মী ছিলেন এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর সময়কার প্রধানমন্ত্রী ভবনে যেতেন, তখন তাঁর বাবা কখনও ভেতরে আসতে চাইতেন না। কারণ বাবা ছিলেন কংগ্রেসের সমর্থক, তাই প্রধানমন্ত্রীকে দেখার বা সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা তাঁর ছিল না।
কিন্তু ২০২৩ সালে তাঁর বাবা প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। স্মৃতির কথায়, “আমার বাবা তখনও কংগ্রেস সমর্থক ছিলেন। বাজপেয়ীজির সময় আমি যখন প্রধানমন্ত্রী ভবনে যেতাম, বাবা কখনও ভেতরে যাননি। কিন্তু এবার তিনিই চাইলেন দেখা করতে, কারণ তিনি মোদীজিকে ধন্যবাদ দিতে চেয়েছিলেন, মেয়েকে দেশের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য।”
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিলেন স্মৃতি ইরানি। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি আমেঠি কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন। বর্তমানে তিনি রাজনীতি থেকে কিছুটা বিরতিতে আছেন, এবং তার মধ্যেই ফিরছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'কিউঁকি সাস ভি কভি বহু থি'-তে, যেটা তাকে এক সময় ‘তুলসী’ নাম দিয়ে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তুলেছিল।
এই ধারাবাহিকই ছিল তাঁর রাজনৈতিক সফরের ‘লঞ্চপ্যাড’। সেই স্মৃতির মুখেই এবার আবার পুরনো গৃহদ্বারের স্মৃতি।