
কেন্দ্রের মন্ত্রীর মানহানি, তৃণমূল সাংসদ ক্ষমা না চাওয়ায় ক্ষুব্ধ আদালত।
শেষ আপডেট: 2 May 2025 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘের প্রাক্তন সহকারী মহাসচিব লক্ষ্মী পুরীর করা মানহানির মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট শুক্রবার তাঁর আবেদনের পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করে দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগে দেওয়া আদেশে যে নির্দেশ ছিল, সাকেতকে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, সেটিই বহাল থাকবে।
বিচারপতি পুরুষেন্দ্র কুমার কৌরব আজকের শুনানিতে জানান, গোখলে যে দেরিতে আবেদন করেছেন, তার গ্রহণযোগ্যতা নেই। তিনি গত বছর ১ জুলাই আদালতের যে রায় হয়েছিল, সেটি খারিজ করতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তা অনেক দেরিতে জমা পড়ে। সেই আবেদনও খারিজ করা হয়।
লক্ষ্মী পুরীর আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে গোখলে এক্স হ্যান্ডেলের একাধিক পোস্টে লক্ষ্মী পুরী ও তাঁর স্বামী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি সুইজারল্যান্ডে তাঁদের একটি সম্পত্তি কেনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইডি তদন্তের দাবিও তোলেন। এসব টুইটের প্রেক্ষিতেই লক্ষ্মী পুরী আদালতের দ্বারস্থ হন।
হাইকোর্টের মতে, গোখলের টুইটগুলি ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও সম্মানহানিকর। এক্স পার্টি রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল—গোখলেকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তাঁর এক্স অ্যাকাউন্টেও ৬ মাস ধরে ক্ষমা প্রার্থনার বার্তা রাখতে হবে।
কিন্তু ওই নির্দেশ মানেননি গোখলে। ফলে লক্ষ্মী পুরী গত ডিসেম্বরে আদালতের অবমাননার মামলা দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই আদালত তাঁর সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক বিবরণী দিতে বলেন। পাশাপাশি সম্প্রতি তাঁর সাংসদ বেতন বাজেয়াপ্ত করে মাসে ১.৯ লক্ষ টাকা কেটে নেওয়ার আদেশও দেওয়া হয় যতদিন না ৫০ লক্ষ টাকা পুরোপুরি আদায় হয়।
বিচারপতি মনমিত প্রীতম সিং অরোরা বলেন, 'নির্দেশ না মানা ও যথাযথ জবাব না দেওয়ার কারণে এই অর্থ বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে। পরবর্তী শুনানি ২৮ মে।'
আদালতের পর্যবেক্ষণে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের 'ওথেলো'-র উদ্ধৃতি টেনে বলা হয়, গোখলের অভিযোগ ছিল 'ভিত্তিহীন ও সন্দেহের পরিসর জুড়ে ছড়ানো, যা মানহানির সমান।'