
অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশিস ভট্টাচার্য, সঙ্গে স্ত্রী
শেষ আপডেট: 24 April 2025 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘রাখে হরি তো মারে কে!’ ভাগ্যের লিখনই বা খণ্ডাবে কে? এমন নানা ধরনের প্রবাদবাক্য নিশ্চয়ই মনে পড়ছে তাঁর! পাশেরজন যখন চোখের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন, তখন উচ্চস্বরে কলমা পাঠ করছিলেন যিনি, তাঁর জন্মপরিচয়- ব্রাহ্মণ, খাস ভট্টাচার্য। শুধু সেই কারণেই বেঁচে যান তিনি। একে অলৌকিক (miracle story of Pahalgam attack) ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়!
জম্মু-কাশ্মীরের (jammu and kashmir) পহেলগামে (pahalgam) ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী হামলায় (kashmir terrorist attack) একের পর এক প্রাণহানির মাঝেও অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেন (escape death) অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবাশিস ভট্টাচার্য।
বৈসরনে (Baisaran valley) প্রকৃতির কোলে গাছের ছায়ায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন দেবাশিস ও তাঁর পরিবার। হঠাৎই শুনতে পান কিছু লোক কলমা (kalima) পাঠ করছেন। সেই মুহূর্তের ভয়াবহতা মনে করে তিনি বলেন, ‘আমি, আমার স্ত্রী আর ছেলে গাছের নীচে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলমা পাঠের শব্দ শুনে আমার ভিতরে কী যেন একটা হল, আমিও হঠাৎ উচ্চস্বরে কলমা পাঠ করতে শুরু করি। ঠিক সেই সময় দেখি, ছদ্মবেশে থাকা এক সন্ত্রাসবাদী এগিয়ে এসে আমার পাশের মানুষটির মাথায় গুলি করে।’
তাঁর কথায়, ‘আমার দিকে তাকিয়ে সে জিজ্ঞাসা করে, ‘তুমি কী করছ?’ আমি তখন আরও জোরে জোরে কলমা পড়তে শুরু করি। জানি না কেন, সে আর কিছু না বলেই সরে যায়।’
ভাগ্য, নাকি বিশ্বাস? কী বলা যায় একে?
এরপর আর দেরি না করে, স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকেন দেবাশিস। ‘টানা দু'ঘণ্টা আমরা হাঁটছিলাম, ঘোড়ার খুরের ছাপ অনুসরণ করে। অবশেষে এক ঘোড়াওয়ালার দেখা পাই, যিনি আমাদের হোটেলে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।’
‘আজও বিশ্বাস করতে পারি না যে আমরা বেঁচে আছি,’- আতঙ্ক গ্রাস করে রেখেছে অধ্যাপক ভট্টাচার্যকে। বর্তমানে তাঁরা শ্রীনগরে রয়েছেন, এবং কত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে পারবেন সেই চিন্তায় কাটছে প্রতিটা মুহূর্ত।
দুর্ভাগ্যবশত, এই হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হয়েছেন। বৈসরনে সেই সকালে ঘুরতে গিয়েছিলেন অনেকেই। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তইবার ছায়াসংগঠন ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
পহেলগামের এই হামলা ছিল নিঃসন্দেহে এক পরিকল্পিত নৃশংসতা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনজন সন্ত্রাসবাদী প্রথমে পুরুষ ও মহিলা পর্যটকদের আলাদা করেন, তারপর পরিচয় যাচাইয়ের পর গুলি চালানো শুরু করেন। কেউ কেউ দূর থেকে গুলিবিদ্ধ হন, অনেকেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান। বৈসারনকে ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট হিসেবে বেঁচে নেওয়া হয়, যাতে দুর্গম রাস্তার কারণে উদ্ধার অভিযান শুরু হতে দেরি হয় এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে।