Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: আজ আদৌ খেলবেন তো? ‘চোটগ্রস্ত’ বিরাটের অনুশীলনের ভিডিও দেখে ছড়াল উদ্বেগনৌকাডুবিতে ১৫ জনের মৃত্যু, বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচাল ইনস্টা রিল, ফোনের নেশাই এনে দিল নতুন জীবন!‘ভূত বাংলা’-তে যিশু সেনগুপ্তর আয় নিয়ে হইচই! ফাঁস হল অঙ্কপদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহের

Water Crisis: প্রতি তিন গ্লাসের একটিতে 'বিষ'! মধ্যপ্রদেশের জল সংক্রান্ত রিপোর্ট ভয় ধরাচ্ছে

স্কুলগুলিতেও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ২৬.৭ শতাংশ স্কুলের পানীয় জলে ব্যাকটেরিয়াল দূষণ রয়েছে, যার অর্থ প্রতিদিন ঝুঁকির মুখে পড়ছে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য।

 

Water Crisis: প্রতি তিন গ্লাসের একটিতে 'বিষ'! মধ্যপ্রদেশের জল সংক্রান্ত রিপোর্ট ভয় ধরাচ্ছে

ফাইল ছবি

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 7 January 2026 13:06

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) গ্রামাঞ্চলে পানীয় জল আর জীবনদায়ী নয় - নীরবে তা পরিণত হয়েছে জনস্বাস্থ্যের পক্ষে এক ক্ষতিকর অস্ত্রে। কেন্দ্রীয় সরকারের জল জীবন মিশনের (Jal Jeevan Mission) সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে, রাজ্যের গ্রামীণ পানীয় জলের এক–তৃতীয়াংশেরও বেশি মানবদেহের জন্য অনুপযুক্ত।

৪ জানুয়ারি, ২০২৬ প্রকাশিত Functionality Assessment Report অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশে মাত্র ৬৩.৩ শতাংশ পানীয় জলের নমুনা গুণমান পরীক্ষায় পাশ করেছে। জাতীয় গড় যেখানে ৭৬ শতাংশ, সেখানে রাজ্যে ব্যর্থ হয়েছে ৩৬.৭ শতাংশ নমুনা। অর্থাৎ লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন ব্যাকটেরিয়া বা রাসায়নিক দূষিত জল (Contaminated Water) পান করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই নমুনাগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর–অক্টোবর মাসে, মধ্যপ্রদেশের ১৫ হাজারেরও বেশি গ্রামীণ পরিবার থেকে।

হাসপাতালেই সবচেয়ে বিপজ্জনক জল

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছবি উঠে এসেছে সরকারি হাসপাতালগুলির (Government Hospitals) জল পরীক্ষায়। সেখানে মাত্র ১২ শতাংশ পানীয় জল মাইক্রোবায়োলজিক্যাল সুরক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। জাতীয় গড় যেখানে ৮৩.১ শতাংশ, সেখানে মধ্যপ্রদেশে কার্যত ৮৮ শতাংশ হাসপাতালেই রোগীদের দেওয়া হচ্ছে অনিরাপদ পানীয় জল।

স্কুলগুলিতেও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ২৬.৭ শতাংশ স্কুলের পানীয় জলে ব্যাকটেরিয়াল দূষণ রয়েছে, যার অর্থ প্রতিদিন ঝুঁকির মুখে পড়ছে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য।

জনজাতি জেলাগুলিতে জল একফোঁটাও নিরাপদ নয়

রাজ্যের জনজাতি অধ্যুষিত জেলা অনুপপুর ও ডিন্ডোরিতে একটি জল নমুনাও নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত হয়নি। বালাঘাট, বেতুল এবং ছিন্দওয়ারাতেও ৫০ শতাংশের বেশি পানীয় জল দূষিত।

কল আছে, জল নেই

মধ্যপ্রদেশে মাত্র ৩১.৫ শতাংশ পরিবারে নলবাহিত জল সংযোগ রয়েছে, যেখানে জাতীয় গড় ৭০.৯ শতাংশ। কাগজে–কলমে ৯৯.১ শতাংশ গ্রামে পাইপলাইন পৌঁছলেও বাস্তবে মাত্র ৭৬.৬ শতাংশ পরিবারে জল আসে। অর্থাৎ প্রতি চারটি পরিবারের একটিতে হয় কল অচল, নয়তো জলই নেই।

তবে জল এলেও তা যে নিরাপদ, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ইন্দোর জেলাকে সরকারি ভাবে ১০০ শতাংশ জল সংযুক্ত ঘোষণা করা হলেও, সেখানে মাত্র ৩৩ শতাংশ পরিবার পানযোগ্য জল পাচ্ছে। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ জল নমুনা গুণমান পরীক্ষায় ব্যর্থ।

এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত একটি “system-generated disaster” বা ব্যবস্থা–জনিত বিপর্যয় বলে চিহ্নিত করেছে। জলমানের উন্নতি না হলে চলতি বছরে অর্থ বরাদ্দ কমানোরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

দূষিত জলে মৃত্যু, হাইকোর্টের কড়া মন্তব্য

ইন্দোরের ভাগীরথপুরায় দূষিত জল পান করে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। হাসপাতালে ভর্তি হন ৪২৯ জন, যাদের মধ্যে ১৬ জন এখনও আইসিইউতে এবং তিন জন ভেন্টিলেশনে।

এই প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট পরিস্থিতিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের মধ্যেই পরিষ্কার পানীয় জলের অধিকার অন্তর্ভুক্ত, এবং বর্তমান পরিস্থিতি সেই অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।


```