রবিবার যোধপুর জেলে গিয়ে সোনমের সঙ্গে দেখা করেন লে এপেক্স বডির আইন উপদেষ্টা হাজী মুস্তফা এবং এই আন্দোলনকারীর দাদা কে সেতাঙ দোরজি।
.jpg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 October 2025 10:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) মুক্তি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের তাঁর স্ত্রী'র দায়ের করা মামলার সোমবার শুনানি হবে। স্বামীর মুক্তি চেয়ে শীর্ষ আদালতে দারস্ত হয়েছেন সোনম পত্নী।
এদিকে শীর্ষ আদালতে শুনানি শুরুর আগের দিন রবিবার যোধপুর জেল থেকে এক বার্তায় লাদাখবাসীর অধিকার আন্দোলনের এই নেতা বলেছেন, গত মাসের হিংসার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। সেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কারাগারে থাকতে প্রস্তুত। লাদাখবাসীকে পূর্ণ রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে বলেছেন আন্দোলন যেন হিংসার রূপ না নেয় গান্ধীবাদী অহিংস পথে প্রতিবাদ করুন।
রবিবার যোধপুর জেলে গিয়ে সোনমের সঙ্গে দেখা করেন লে এপেক্স বডির আইন উপদেষ্টা হাজী মুস্তফা এবং এই আন্দোলনকারীর দাদা কে সেতাঙ দোরজি।
এদিকে সরকারি সূত্রের খবর সোমবার শীর্ষ আদালতে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক লিখিতভাবে জানাতে পারে কেন লাদাখের এই নেতাকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে (Supreme Court to hear plea challenging Sonam Wangchuk's arrest)।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গত মাসে সোনমকে গ্রেফতারের আগেই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল লাদাখের অশান্তির মূলে এই অধিকার আন্দোলনের নেতার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তিনি লাদাখকে পূর্ণ রাজ্য ঘোষণার দাবিতে অনশন আন্দোলনের পাশাপাশি মানুষকে খেপিয়ে তুলেছিলেন। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে তিনি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর গ্রামের বাড়িতে চলে যান। অশান্তি থামাতে তিনি কোনও পদক্ষেপ করেননি। অথচ আন্দোলনের ডাক তিনিই দিয়েছিলেন। তাঁর ডাকেই লাদাখের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ লে'তে জড়ো হয়েছিলেন। গত মাসের ২৪ তারিখ লে'তে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে চারজন নিহত হন আহত হয়েছেন বহু মানুষ। নিহতদের একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মী।
সোনমের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও তুলেছে প্রশাসন। চলতি বছরের গোড়ায় তার পাকিস্তান সফরকে সন্দেহের চোখে দেখছেন প্রশাসনিক কর্তারা। যদিও সোনমের দাবি পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আলোচনায় অংশ নিতে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়েই তিনি পাকিস্তান গিয়েছিলেন। ইসলামাবাদের সেই সম্মেলনে তিনি পরিবেশ রক্ষায় ভারত সরকারের উদ্যোগগুলি তুলে ধরেন। সেখানে সরকারবিরোধী কোন কথা তিনি বলেননি।
সামাজিক মাধ্যমে সোনমের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের একটি ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে এই অধিকার ও পরিবেশ আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই। সোনমের বক্তব্য তিনি ২০১৭ সালে ঢাকায় গিয়েছিলেন। তখন মহম্মদ ইউনুস তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবিটি সেই সময়কার।
সোনমের সঙ্গে ইউনুসকে জড়িয়ে ছবি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশ সরকারও প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেষ সচিব শফিকুল আলমও জানিয়েছেন ছবিটি বহু পুরনো এবং ইউনুসের সঙ্গে সুনামের কোন বিশেষ সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই একবারই তাঁদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল।