গত ১২ জুলাই ফকির মোহন কলেজ (Fakir Mohan Autonomous College) ক্যাম্পাসেই নিজের আগুন লাগিয়ে দেন এক ছাত্রী। তাঁর অভিযোগ ছিল, কলেজের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করার পরও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে
শেষ আপডেট: 20 July 2025 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অধ্যাপকের যৌন নিগ্রহ সহ্য করতে না পেরে ওড়িশায় গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হন ফকির মোহন অটোনোমাস কলেজের ছাত্রী। এবার সামনে এল একটি সিসিটিভি ফুটেজ, যেখানে দেখা যাচ্ছে ওই তরুণী একটি পেট্রল পাম্প কিনছেন। ফুটেজটি ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগের। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা (CCTV shows woman buying petrol)।
গত ১২ জুলাই ফকির মোহন কলেজ (Fakir Mohan Autonomous College) ক্যাম্পাসেই নিজের আগুন লাগিয়ে দেন এক ছাত্রী। তাঁর অভিযোগ ছিল, কলেজের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করার পরও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এরপরই তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বালেশ্বরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ১৪ জুলাই রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
ঘটনার পরই জেলার সমস্ত পেট্রল পাম্পে (CCTV Footage of petrol pump) বোতলে পেট্রল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউজিসি (UGC) এবং রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর এই ঘটনার তদন্তে দুটি পৃথক দল গঠন করেছে। ইউজিসির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন রাজকুমার মিত্তল। গত দু'দিন ধরে তাঁরা কলেজ কর্তৃপক্ষ, অধ্যাপক ও অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির (ICC) সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। জানা গিয়েছে, ওই কমিটি তাদের রিপোর্টে জানিয়েছিল, ছাত্রীর অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওড়িশার রাজনীতিও সরগরম। বিরোধী দল বিজেডির মহিলা শাখা রাজ্য মহিলা কমিশনের অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের মহিলা কমিশন নারী সুরক্ষার বিষয়ে কার্যত নিষ্ক্রিয়। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কমিশনের শূন্য পদগুলি অবিলম্বে না পূরণ করলে তাঁরা কমিশনের অফিস তালাবন্দি করবেন।
উল্লেখ্য, তদন্তে আগেই উঠে এসেছে ঘটনার দশদিন আগেই কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির কাছে একটি চিঠি দিয়েছিলেন ওই তরুণী। ওই চিঠিতেই অভিযুক্ত হিসেবে বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহুর নাম উল্লেখ ছিল। এভাবে চলতে থাকলে এবং অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপরও কলেজ কর্তৃপক্ষ নিষ্ক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ।