প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি সভানেত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোকাহত। তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা রইল।'

খালেদার প্রয়াণে শোক প্রকাশ মোদীর
শেষ আপডেট: 30 December 2025 17:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)। দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার ভোরে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপির (BNP) সভানেত্রী। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, 'প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি সভানেত্রী খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) প্রয়াণে গভীর শোকাহত। তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা রইল।'
Deeply saddened to learn about the passing away of former Prime Minister and BNP Chairperson Begum Khaleda Zia in Dhaka.
Our sincerest condolences to her family and all the people of Bangladesh. May the Almighty grant her family the fortitude to bear this tragic loss.
As the… pic.twitter.com/BLg6K52vak— Narendra Modi (@narendramodi) December 30, 2025
ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক (India-Bangladesh Relation) মজবুত করতে খালেদা জিয়ার (Bangladesh Former PM Khaleda Zia) ভূমিকা প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। লেখেন, "বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়নে এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মজবুত করতে তাঁর অবদান প্রচুর।" যোগ করেন, "২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ মনে পড়ছে। আশা করি, তাঁর দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও দুই দেশের সম্পর্ককে পথ দেখাবে। তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।"
মঙ্গলবার বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, খালেদা পুত্র তারেক তাঁকে ফোন করে বলেছেন 'আম্মা আর নেই।'
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন ঢাকায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁদের নেত্রী সকাল সাড়ে ৬টার সময় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে পুত্র তারেক জিয়া এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) বিগত প্রায় ১৫ বছর যাবত অসুস্থ ছিলেন। তাঁর কিডনি, লিভার, হার্ট, কিছুই স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। বিগত কয়েক বছর তিনি মূলত চিকিৎসার উপরেই বেঁচে ছিলেন। গত মাসের ২৩ তারিখ তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়।
খালেদার শারীরিক পরিস্থিতির (Khaleda Zia Health Condition) অবনতি হতে শুরু করলে গত মাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে 'বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' বলে ঘোষণা করে। তাঁর জন্য দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বরাদ্দ করা হয়। মনে করা হচ্ছে, দেশ ও জাতির প্রতি খালেদার অবদানের কথা বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেয় ইউনুস সরকার।
সেই সময় লন্ডনে ছিলেন খালেদাপুত্র তারেক (Tarek Zia)। গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। তখন থেকেই মায়ের চিকিৎসার তদারকি করছিলেন। সোমবার গভীর রাতে চিকিৎসকেরা তাঁকে হাসপাতালে ডেকে পাঠায়। দ্রুত তারেক সপরিবারে হাসপাতালে যান।
ভোররাতে বাড়ি ফেরার ঘন্টাখানেকের মাথায় ফের তাঁদের খবর দেয় হাসপাতাল। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা জানান, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আর নেই। সকাল সাড়ে ছ'টা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।