নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 24 November 2024 02:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব জল্পনাকে মিথ্যা প্রমাণ করে মহারাষ্ট্রে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাপটে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিরোধী শিবির। এই জয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার মহারাষ্ট্রে বিজেপির সদর দফতরে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। এদিন তাঁর বক্তব্যে একদিকে উঠে এসেছে মারাঠাভুমে গেরুয়া শিবিরের দাপটের কথা, তেমনই নরমে-গরমে বিরোধীদের খোঁচা দিতে ছাড়েননি মোদী।
শনিবার সন্ধেয় মহারাষ্ট্রে বিজেপির সদর দফতরে ঢুকতেই বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীর নামে জয়ধ্বনি দিতে থাকেন। তবে বক্তব্যের শুরুতেই কী কারণে মহারাষ্ট্রে গেরুয়া শিবির ভাল ফল করেছে তার খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।
মোদী মনে করিয়ে দেন, আমরা ঐতিহাসিক জয় পালন করতে আজ এখানে এক হয়েছি। এরপরই বিরোধীদের আক্রমণ করে তিনি স্পষ্ট জানান, 'এই জয় বিকাশ ও সুশাসনের জয়। আমি দলীয় কর্মী, সমর্থকদের এই জয় উৎসর্গ করতে চাই। তাঁরাই এই জয়ের আসল কাণ্ডারি।’
এরপরই বিরোধীদের খোঁচা দিয়ে মোদী মনে করিয়ে দেন, 'বিরোধীদের অপপ্রচার, কুৎসার রাজনীতিকে জবাব দিয়েছে মারাঠাবাসী। পরিবারবাদকে কোনও সুযোগ না দিয়ে উন্নয়নের উপর ভর করেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন মানুষ। এই জয় বিকশিত ভারতের সঙ্কল্পকে আরও মজবুত করেছে।’
তবে ঝাড়খণ্ডে দলের আশানুরূপ ফল না হলেও সে রাজ্যের দলীয় কর্মীদের উদ্দেশেও বার্তা দিয়ে মোদি মনে করিয়ে দেন, ‘আমাদের সমর্থন করার জন্য ঝাড়খণ্ডবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। মোদী বলেন, আমি জনগণকে আশ্বাস দিচ্ছি, আমাদের জোট মহারাষ্ট্রের উন্নতির জন্য কাজ করবে।’
মোদীর অভিযোগ, 'কংগ্রেস বিভাজন করতে চেয়েছিল। মহারাষ্ট্র তা খারিজ করে দিয়েছে। জাতি, ভাষা নিয়ে যারা বিভাজন করছিল তাদের জন্য এই ফলাফল বড় শিক্ষা। আমাদের দলিত ভাইবোনরাও ভোট দিয়েছেন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। কংগ্রেস ও ইন্ডির ইকো সিস্টেমকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।'
ফলাফল সামনে আসতে একটা বিষয় পরিষ্কার। মহারাষ্ট্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন ‘মহায়ুতি’ শুধু ক্ষমতা ধরে রেখেছে এমনটা নয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গেরুয়া বাহিনীর বিপুল জয়ে রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পাচ্ছে না কোনও দলই। সবকিছু ঠিক থাকলে বিজেপি নেতা তথা উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশই ফের মারাঠাভূমের মসনদে বসতে পারেন বলে জল্পনা চলছে।
২৮৮ সদস্যবিশিষ্ট বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার হল ১৪৫টি আসন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির নেতৃত্বে সরকার গঠন প্রায় অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠতে চলেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই সরকার গঠনের তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।