মোদী ও পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় ফোনালাপে একদিকে যেমন ইদ ও পারস্য নববর্ষ নওরোজের শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে (shipping security global trade discussion)।

এটি মোদী ও পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় ফোনালাপ
শেষ আপডেট: 21 March 2026 18:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার আবহে আবারও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)-এর সঙ্গে টেলিফোনে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে (Modi Iran President call shipping lanes)। তা জানিয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টও করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় শুরু হওয়া সংঘাতের পর এটি মোদী ও পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় ফোনালাপ।
তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কথোপকথনে একদিকে যেমন ইদ ও পারস্য নববর্ষ নওরোজের শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে (shipping security global trade discussion)।
Spoke with President Dr. Masoud Pezeshkian and conveyed Eid and Nowruz greetings. We expressed hope that this festive season brings peace, stability and prosperity to West Asia.
Condemned attacks on critical infrastructure in the region, which threaten regional stability and…— Narendra Modi (@narendramodi) March 21, 2026
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, “এই উৎসবের মরশুম পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনুক” - এই আশাই দু’দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলার নিন্দা
কথোপকথনের সময় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় এই ধরনের হামলার নিন্দা করেন এবং বলেন, এগুলি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে এবং বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
শিপিং লেন খোলা রাখা জরুরি
বিশ্ব বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে শিপিং লেন খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি, এই বার্তাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমুদ্রপথে চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের রুটগুলিকে নিরাপদ রাখা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বর্তমানে হরমুজে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়েছে।
এর আগে এই মাসের শুরুতেও দু’জনের মধ্যে কথা হয়েছিল। তখন প্রধানমন্ত্রী অঞ্চলের “গুরুতর পরিস্থিতি” নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও নাগরিক পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গভীর চিন্তার কথা জানান।
একইসঙ্গে তিনি ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং পণ্য ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন।
কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত
বর্তমান পরিস্থিতিতে গালফ অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে ভারত নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন পরিস্থিতি নিয়ে।
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জেরে ২০টিরও বেশি ভারতীয় জাহাজ এখনও পারস্য উপসাগর এলাকায় আটকে রয়েছে। তবে গত সপ্তাহে একটি ইতিবাচক দিকও দেখা গিয়েছে। ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার শিবালিক এবং নন্দা দেবী মোট ৯২,৭১২ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে।
বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে জাহাজ চলাচল নিয়ে ভারতের কোনও ‘সর্বজনীন চুক্তি’ নেই। প্রতিটি জাহাজের চলাচল আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়। ব্রাসেলসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তার ইতিবাচক ফলও মিলছে, সাম্প্রতিক ট্যাঙ্কার চলাচল তারই প্রমাণ।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, বর্তমান সঙ্কট মোকাবিলায় ভারত একদিকে যেমন কূটনৈতিকভাবে সক্রিয়, তেমনই বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলি খোলা রাখার উপর জোর দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে টানাপড়েনের মধ্যে এই বার্তা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।