সদ্য উদ্বোধন হওয়া এই ডে কেয়ার ক্যানসার কেমোথেরাপি সেন্টারে ইতিমধ্যেই ৩৫ জন রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

শেষ আপডেট: 23 July 2025 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসারের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা এখনও ভারতের বহু পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয়। সেই চিকিৎসাকে প্রান্তিক মানুষের কাছে সহজলভ্য করে পৌঁছে দিতে বড়সড় পদক্ষেপ করল জলন্ধর সিভিল হাসপাতাল।
এখন থেকে ওই হাসপাতালে ক্যানসার রোগীরা পাবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কেমোথেরাপির সুবিধা। সদ্য উদ্বোধন হওয়া এই ডে কেয়ার ক্যানসার কেমোথেরাপি সেন্টারে ইতিমধ্যেই ৩৫ জন রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
সোমবার এই সেন্টারের উদ্বোধন করেন রাজ্যের উদ্যানপালন, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও প্রতিরক্ষা পরিষেবা মন্ত্রকের মন্ত্রী মহীন্দ্র ভগত। এর ফলে জলন্ধর সিভিল হাসপাতাল, ভাটিন্ডার পরে দ্বিতীয় জেলা হাসপাতাল হল যেখানে ক্যানসার রোগীদের জন্য এমন কোনও সরকারি পরিষেবা চালু হল।
৮ শয্যার এই কেমো সেন্টারটি সম্পূর্ণ আধুনিক সুবিধায় মোড়া। সেখানে থাকছে প্রয়োজনীয় ওষুধ, অক্সিজেন এবং ১০টি ভেন্টিলেটর। সবটাই পরিচালনা হবে অনকোলজি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে, এবং এর জন্য কোনও রোগীকে একটিও পয়সা খরচ করতে হবে না।
গত এক বছরে সিভিল হাসপাতালে এটি দ্বিতীয় বিশেষায়িত প্রকল্প। এর আগে একটি নতুন ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছিল।
‘মুখ্যমন্ত্রী পাঞ্জাব ক্যানসার রহাত কোশ (MMPCRK)’ চালু হয় ২০১২ সালে। তখন থেকে জলন্ধরে মোট ৪,৫৩৭ জন রোগী এই তহবিলে নাম নথিভুক্ত করেছেন। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য, রাজ্য সরকার ক্যানসার রোগীদের পাশে দাঁড়াতে চায়।
২০১৯ থেকে ২০২৫-এর জানুয়ারি পর্যন্ত এই স্কিমে ১,৪৮৮ জন রোগী রেজিস্টার করেন, যার মধ্যে ৮৫৬ পুরুষ ও ৬৩২ মহিলা।
তবে পরবর্তী সময়ে এই স্কিমে রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা কমেছে, কারণ অনেকেই এখন ‘আয়ুষ্মান ভারত স্কিম’-এর অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা বছরে ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা সুরক্ষা দেয়।
প্রসঙ্গত, কোভিডের বছর ২০২০-তে রেজিস্ট্রেশন বেশ কম ছিল। এছাড়া অনুমান করা হচ্ছে, জলন্ধরের বেসরকারি ক্যানসার হাসপাতালে প্রতি বছর প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ রোগী চিকিৎসা করান, যা সরকারি স্কিমে রেজিস্টার করা রোগীর মোট সংখ্যার সমান প্রায়।
সিভিল সার্জন ডাঃ গুরমিত লাল জানান, ‘‘এই নতুন সেন্টার সেই সব গরিব রোগীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে যাঁদের এতদিন কেমোথেরাপির জন্য দূরে যেতে হত। এখন তাঁরা জলন্ধরেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন।’’
মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট বলেন, “চণ্ডীগড় বা অমৃতসর যাওয়ার ঝক্কি অনেকটাই কমে গেছে। ইতিমধ্যেই ৩৫ জন রোগী এখানে কেমোথেরাপি শুরু করেছেন। জলন্ধরের ক্যানসার চিকিৎসায় এটা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”