শহর পুলিশের তরফে এই পোস্টারে মেয়েদের রাতবিরেতে ঘোরাফেরা, পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে নির্জন স্থানে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কারণ, হিসেবে বলা হয়েছে, এর ফলে মেয়েরা ধর্ষণ-গণধর্ষণের শিকার হতে পারেন।

গুজরাতি ভাষায় লেখা সেই বিতর্কিত পোস্টার।
শেষ আপডেট: 2 August 2025 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি-শাসিত গুজরাতের আমদাবাদে বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শহর পুলিশের তরফে এই পোস্টারে মেয়েদের রাতবিরেতে ঘোরাফেরা, পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে নির্জন স্থানে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কারণ, হিসেবে বলা হয়েছে, এর ফলে মেয়েরা ধর্ষণ-গণধর্ষণের শিকার হতে পারেন। শহরের সোলা ও চাণক্যপুরী এলাকায় এ ধরনের পোস্টার পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হইচই পড়ে যায়। বিতর্কের ধোঁয়া ক্ষোভের আগুনে পরিণত হতে দেখে পুলিশ সাততাড়াতাড়ি সেই সব পোস্টার খুলে ফেলে।
পোস্টারে মেয়েদের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে, হে রঙ্গলি, নাইট পার্টিতে যেও না...ধর্ষণ...গণধর্ষণ হতে পারে। পুরুষদের জন্য লেখা রয়েছে, হে রঙ্গলা, বান্ধবীদের অন্ধকার নির্জন এলাকায় নিয়ে যেও না। ধর্ষণ...গণধর্ষণ হয়ে গেলে কী করবে? এই পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যেতেই অস্বস্তিতে পড়ে আমদাবাদ পুলিশ। বিশেষ করে নারীবাদী সংগঠনগুলি, রাজনৈতিক দল কেউই ছেড়ে কথা বলতে কসুর করেনি।
পোস্টার ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যাওয়ায় পুলিশ তাড়াতাড়ি ওগুলি তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। জানা গিয়েছে, আমদাবাদ ট্রাফিক পুলিশের তরফে একটি সচেতনতা প্রচারের জন্য পোস্টারগুলি লাগানো হয়েছিল। যার মূল বিষয় হল- ধর্ষিতা হওয়া ঠেকাতে মহিলাদের ঘরে বসে থাকার পরামর্শ। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, মহিলাদের ধর্ষণ বাঁচাতে ঘরে বসে থাকতে হলে পুলিশ কী করতে আছে!
সাফাই দিতে শহরের এক পুলিশ আধিকারিক নীতা দেশাই বলেন, সতর্কতা নামে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অনুমতি ছাড়াই পুলিশের নামে ওগুলি সাঁটিয়ে দেয়। ওই সংস্থা আমাদের কাছে এসেছিল। তারা বলে, একটি ট্রাফিক সচেতনামূলক কর্মসূচি চালু করবে স্কুল-কলেজে। আমাদের কাছে লোকবলের সাহায্য চায় তারা। আমাদের যান সতর্কতার কিছু পোস্টার দেখায়। কিন্তু এ ধরনের বিতর্কিত পোস্টার আমাদের দেখানো হয়নি। আমাদের সম্মতি ছাড়াই ওগুলো লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি শহরের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমদাবাদ মেয়েদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত। আসন্ন নবরাত্রি ও গরবা উৎসবের সময় সারারাত পুলিশ টহল দেবে রাস্তায়। কারও ভয়ের কোনও কারণ নেই। কিন্তু পুলিশের আশ্বাসবাণী সত্ত্বেও রাজ্যের বিরোধী দলগুলি চুপ করে বসে নেই এই ঘটনায়।
শাসকদল বিজেপিকে বিঁধে কংগ্রেস বলেছে, পুলিশের নামেই যখন স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে যে, এ রাজ্য মহিলাদের পক্ষে নিরাপদ নয়, তখন তা পুরোপুরি সরকারের ব্যর্থতা। রাজ্যে প্রতিদিন গড়ে ৬ জন করে ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু, সরকার কোনও ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ। বিরোধী নেতাদের উপর গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে সরকারের উচিত মেয়েদের সুরক্ষায় নজর দেওয়া। আম আদমি পার্টির তরফে বলা হয়েছে, এই পোস্টারই এ রাজ্যে মহিলা সুরক্ষার প্রমাণ। বিজেপি মহিলা সশক্তিকরণের কথা বলে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বিপরীত। গত তিন বছরে রাজ্যে সাড়ে ৬ হাজার ধর্ষণ ও ৩৬টির বেশি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রশ্ন, মেয়েরা তাহলে কী করবে? রাতে বেরবে, নাকি ঘরে দরজা এঁটে বসে থাকবে?