
শেষ আপডেট: 6 October 2024 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব বুথ ফেরত সমীক্ষা রিপোর্টেই হরিয়ানায় কংগ্রেসের বিপুল ব্যবধানে জয়ের আভাস দেওয়া হয়েছে। ভোটের আগেই জানা ছিল, দশ বছর ক্ষমতাসীন বিজেপি বিদায় নিচ্ছে।
সরকার গড়বে ধরে নিয়ে কংগ্রেস বিধায়কদের নিরাপদ স্থানে রাখার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। হরিয়ানায় দলে ভোটের আগে দাবিদার ছিলেন তিনজন—প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপিন্দর সিং হুডা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা লোকসভার সদস্য কুমারী শৈলজা এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। শনিবার বুথ ফেরত সমীক্ষা প্রকাশের পর তালিকায় যুক্ত হয়েছে চতুর্থ নাম দীপেন্দ্র সিং হুডা। তিনি ভূপিন্দরের পুত্র এবং লোকসভার সদস্য।
তবে এখনও পর্যন্ত ভূপিন্দরই এগিয়ে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণ হল, একদিকে, কুমারী শৈলজা যেমন সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি পেশ করে এসেছেন, অন্যদিকে, ভূপিন্দর এবং তাঁর পুত্র দীপেন্দ্র দু’জনেই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সংবাদমাধ্যমের কাছে।
হরিয়ানার ভোটের ফল বিচার করে ভূপিন্দর সিংয়ের অবদানকে সবাই একবাক্যে স্বীকার করছে। জাঠ ভোটের প্রায় পুরোটাই তিনি হাত শিবিরে নিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে, শৈলজার অনুগামীরা দাবি করছেন, তফসিলি ভোট কংগ্রেসের বাক্সে ফিরেছে এই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পাঁচবারের সাংসদের কারণে। যদিও কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেত্রীর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ উঠেছে দলে। ভূপিন্দর শিবিরের বক্তব্য, শৈলজা মুখ্যমন্ত্রিত্ব দাবি করে দলকে দুর্বল করেছেন। অন্যদিকে, রণদীপ সিং সুরজেওয়ার ভরসা কংগ্রেস হাইকমান্ড। যদিও রাহুল গান্ধী ভূপিন্দরের দিকেই ঝুঁকে বলে খবর।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে লড়াই জমে উঠতে পারে বাবা ও ছেলের দাবি ঘিরে। ভূপিন্দ্রর ২০০৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। মাঝে দশ বছর বিরোধী দলনেতা হিসাবে প্রবল বেগ দিয়েছেন বিজেপি সরকারকে। মূলত তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিত্বের লড়াইয়ে পিছিলে পড়া মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরকে কয়েক মাস আগে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয় বিজেপি।
অন্যদিকে, তাঁর আমেরিকায় পড়াশুনো করা পুত্র দীপেন্দ্র বছর কুড়ি হল রাজ্য-রাজনীতিতে সক্রিয়। কংগ্রেসের এই নবীন নেতাও রাহুলের ঘনিষ্ঠ এবং দলেও যথেষ্ট জনপ্রিয়। শৈলজা এবং ভূপিন্দরের লড়াই তীব্র হলে দীপেন্দ্রর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ছেলের জন্য বাবা ভূপিন্দপ নিজের দান ছাড়বেন কি না সেটাই দেখার।