প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিল নীতীশ সরকার। পূর্ব ভারতে টেক হাব গড়ার কথাও উঠল। আর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?

নীতীশ কুমার
শেষ আপডেট: 25 November 2025 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বড় ঘোষণা নীতীশ সরকারের। মঙ্গলবার বৈঠক শেষে রাজ্যের মুখ্যসচিব প্রত্যয় অমৃত জানালেন, আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যের যুবকদের এক কোটি চাকরি (jobs) দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিহারকে পূর্ব ভারতের ‘টেক হাব’ (tech hub of eastern India) বানানোর জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সবুজ সংকেত মিলেছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে মূল আলোচ্য ছিল ব্যাপক কর্মসংস্থান (employment generation) এবং শিল্পোন্নয়ন (industrial development)। মুখ্যসচিব জানান, বিহারে তৈরি হবে ডিফেন্স করিডর (defence corridor), সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং পার্ক (semiconductor manufacturing park), গ্লোবাল ক্যাপাসিটি সেন্টার (global capacity centres), মেগা টেক সিটি (mega tech city) এবং ফিটনেস সিটি (fitness city)। নতুন অর্থনীতি বা ‘নিউ এজ ইকোনমি’ (new-age economy) মডেলের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে বিহারকে একটি “ব্যাক-এন্ড হাব” (back-end hub) এবং বিশ্বমানের কর্মক্ষেত্র বা “গ্লোবাল ওয়ার্কপ্লেস” (global workplace) হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য।
এই সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই একাধিক বিশেষ কমিটি (dedicated committees) গঠন করা হয়েছে। স্টার্ট-আপ খাতে (start-up domain) কর্মসংস্থানভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করার জন্যও আলাদা কমিটি হয়েছে, যাতে দক্ষ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা যায়। পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মিশন (Artificial Intelligence Mission) চালুর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। লক্ষ্য, এআই-র ক্ষেত্রে বিহারকে দেশের প্রথম সারির রাজ্য হিসেবে তুলে ধরা।
এছাড়া রাজ্যে ১১টি শহরে গ্রিনফিল্ড টাউনশিপ (greenfield township) প্রকল্প শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই তালিকায় আছে ৯টি বিভাগীয় শহর, সঙ্গে সোনেপুর ও সীতামারহি। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা নয়টি চিনিকল (sugar mills) পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি আরও ২৫টি নতুন মিল তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে তারা।
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিল্পোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কাজ দ্রুততর করার উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর কথায়, “বিহারের বদলে যাওয়া পরিবেশে উন্নয়নের গতি বাড়াতে প্রযুক্তি ও পরিষেবা-নির্ভর ‘নিউ এজ ইকোনমি’ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছি। বিহারের সঙ্গে যুক্ত বড় উদ্যোক্তাদের পরামর্শ নিয়ে নীতিনির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দফতর, অর্থনীতিবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় একটি ডিটেইলড অ্যাকশন প্ল্যান (detailed action plan) তৈরি হবে।”
সব মিলিয়ে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ইঙ্গিত স্পষ্ট, আগামী পাঁচ বছরে বিহারে শিল্প, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং আধুনিক নগরায়ণকে সামনে রেখেই এগোবে নীতীশ কুমারের সরকার।