স্ত্রী হিমাংশিকে নিয়ে কাশ্মীরের পাহেলগামে ঘুরতে গিয়েছিলেন নারওয়াল, আর সেখানেই জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।

বিনয়ের বাবা রাজেশ নারওয়াল
শেষ আপডেট: 18 July 2025 16:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬ বছরের লেফটেন্যান্ট বিনয় নারওয়াল (Vinay Narwal), সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন। এপ্রিলের ১৬ তারিখ বিয়ের পর মাত্র ছ’দিন কেটেছিল। স্ত্রী হিমাংশিকে নিয়ে কাশ্মীরের পাহেলগাম (Pahalgam Attack) ঘুরতে গিয়েছিলেন, আর সেখানেই জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। নববধূর কান্নারত অবস্থায় স্বামীর মরদেহের পাশে বসে থাকার সেই ছবি গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
আজও তাঁর বাবা রাজেশ নারওয়াল এক অসহনীয় শোক বয়ে চলেছেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যেদিন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের (Asim Munir) সন্তানকে কেউ মেরে ফেলবে, সেদিনই তিনি বুঝবেন আমার যন্ত্রণা। আমি যদি সাধারণ একজন মানুষ হয়েও বন্দুক তুলে ওঁর সন্তানকে মেরে ফেলি, তখন ওঁর উপলব্ধি হবে একজন বাবা কী যন্ত্রণা বয়ে বেড়ায়।”
কাশ্মীরের ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত বৈসরনে বেড়াতে গিয়ে, প্লেটভর্তি ভেলপুরি ভাগ করে খাওয়ার সময় এক জঙ্গি, লেফটেন্যান্ট নারওয়ালের মাথায় কাছ থেকে গুলি চালায়। স্ত্রী হিমাংশির চোখের সামনেই ঝরে যায় স্বামীর প্রাণ।
রাজেশ নারওয়াল ভারী গলায় বলেন, “আমি বাড়িতে কাঁদতেও পারি না। আমার স্ত্রী, আমার মা-বাবা সবাই ভেঙে পড়েছে। আমি শক্ত থাকার চেষ্টা করি, যাতে ওরা মনে করে আমি ঠিক আছি। কিন্তু ঘুম নেই, শান্তি নেই। সাইকিয়াট্রিস্টের ওষুধেও কিছু বদলায় না। দুঃখের ওষুধ হয় না।”
ভারতীয় নৌবাহিনীর তরফে সম্পূর্ণ মর্যাদায় লেফটেন্যান্ট নারওয়ালের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। স্ত্রী হিমাংশি তাঁর কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে শেষ বিদায় জানান।
ছোটবেলা থেকেই সেনাবাহিনীর প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন নারওয়াল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি নিয়ে পড়াশোনা করা রাজেশ নারওয়াল বলেন, “আমার ছেলে সত্যের পথে হাঁটতে শিখেছিল। সাহস, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা সব কিছুই ওর মধ্যে ছিল। তিন দশক ধরে আমরা সবাই মিলে ওকে গড়ে তুলেছিলাম। ও সব সময় আমার মনেই থাকে। সকালে চোখ খোলার পর প্রথম ওর কথাই মনে আসে।”
ব্রিটেন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-কে ‘বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ ও ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বিশ্ব সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী’ (SDGT) হিসেবে ঘোষণা করার পর নারওয়ালের বাবা বলেন, “এই প্রতীকী পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। টিআরএফ আসলে লস্কর-ই-তইবা’র ছদ্মবেশ। শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এদের নির্মূল করা যাবে না। যে দলগুলি সন্ত্রাসবাদকে আদর্শ হিসেবে নেয়, সমাজের ক্ষতি করে, তাদের সমূলে বিনাশ করা দরকার।”