অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরীতে সন্দেহভাজন দুধে ভেজাল কাণ্ডে মৃত বেড়ে ১৩। গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ডায়ালিসিস চলছে আরও ৭ জনের।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 12 March 2026 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্ধ্রপ্রদেশে (Andhra Pradesh) ভেজাল দুধে খেয়ে মৃত্যু হল ১৩ জনের। পূর্ব গোদাবরী (East Godavari) জেলায় বিষাক্ত দুধ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজামহেন্দ্রবরম (Rajamahendravaram) হাসপাতালে ভর্তি আরও ৭ জন। ইতিমধ্যেই একাধিক দফতর যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
প্রথম অসুস্থতার ঘটনা সামনে আসে ২২ ফেব্রুয়ারি। লালাচেরুভু (Lalacheruvu) এলাকার চৌদেশ্বরনগর (Chowdeswaranagar) ও স্বরূপনগর (Swaroopanagar)-এর বেশ কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা আচমকাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের উপসর্গ ছিল প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া (Anuria), বমি (Vomiting), তীব্র পেটব্যথা (Abdominal Pain) এবং আকস্মিক কিডনি বিকল (Acute Renal Dysfunction)। অনেকেরই অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে ডায়ালিসিস (Dialysis) করাতে হয়।
তদন্তে উঠে আসে, আক্রান্তদের সবারই একটি সাধারণ যোগসূত্র রয়েছে—স্থানীয় একটি দুগ্ধ সরবরাহ কেন্দ্রের দুধ। নারসাপুরম (Narasapuram) গ্রামের বরালক্ষ্মী মিল্ক ডেয়ারি (Varalakshmi Milk Dairy) থেকে ওই দুধ সরবরাহ করা হয়েছিল। করুকোন্ডা মণ্ডল (Korukonda Mandal)-এর ওই ডেয়ারি থেকে প্রায় ১০৬টি পরিবারে দুধ পৌঁছেছিল। অসুস্থতার ঘটনা সামনে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে দুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় আক্রান্তদের রক্তে ইউরিয়া (Blood Urea) ও সিরাম ক্রিয়েটিনিন (Serum Creatinine)-এর মাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে বেশি দেখা যায়। স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, এটি বিষাক্ত কোনও পদার্থের সংস্পর্শে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত। প্রাথমিক তদন্তে (Epidemiology Investigation) দুধকেই মূল উৎস বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ঘটনার পর তৎপর হয় প্রশাসন। প্রশাসনের আধিকারিক (Surveillance Officer), চিকিৎসক (Physician), মাইক্রোবায়োলজিস্ট (Microbiologist), শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ (Pediatrician), ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ (Forensic Expert), মহামারি বিশেষজ্ঞ (Epidemiologist) ও কিডনি বিশেষজ্ঞদের (Nephrologist) নিয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল (Rapid Response Team) গঠন করা হয়। আক্রান্ত এলাকায় চালু করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার জরুরি মেডিক্যাল ক্যাম্প (Emergency Medical Camp)। রয়েছে অ্যাম্বুল্যান্সও।
এদিকে খাদ্য সুরক্ষা দফতর (Food Safety Department) হানা দেয় ওই ডেয়ারিতে। সিল করে দেওয়া হয় ইউনিটটি। সেখান থেকে দুধ (Milk), পনির (Paneer), ঘি (Ghee), জল (Water) ও ভিনিগার (Vinegar)-এর নমুনা সংগ্রহ করেছেন আধিকারিকরা। পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে জেএনটিইউ কাকিনাডা (JNTU Kakinada) এবং হায়দরাবাদের ভিমটা ল্যাবসে (VIMTA Labs)। সেখানে মাইক্রোবিয়াল (Microbial), রাসায়নিক (Chemical) ও বিষাক্ত ভেজাল (Toxic Adulterant) রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ৩৩ বছরের দুধ বিক্রেতা আড্ডালা গণেশ্বররাওকে (Addala Ganeswararao) আটক করেছে পুলিশ। ক্রাইম ল্যাব এক্সপার্টস ইউনিট (CLUES Team) ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে রয়েছে, চলছে তল্লাশি। মৃতদের ময়নাতদন্তের নমুনা পাঠানো হয়েছে বিজয়ওয়াড়ার (Vijayawada) আঞ্চলিক ফরেনসিক পরীক্ষাগারে (Regional Forensic Lab)।
পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS) ১৯৪ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) ১৭৪ ধারায় মামলা রুজু করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে গোটা সরবরাহ চক্র। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ দফতর (Animal Husbandry Department) থেকে বিশেষ পশুচিকিৎসক দল পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুধ, পশুখাদ্য ও জলের মোট ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে ভেটেরিনারি বায়োলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (Veterinary Biological Research Institute)। আক্রান্তদের রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনাও টক্সিকোলজিক্যাল পরীক্ষার (Toxicological Analysis) জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক সন্দেহ, দুধে ইথিলিন গ্লাইকোল (Ethylene Glycol) বা তার মতো কোনও বিষাক্ত রাসায়নিক মিশে থাকতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও নির্দিষ্ট ভেজালের কথা নিশ্চিত করা হয়নি।
এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা (Food Safety) ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে নজরদারি চলবে।