দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত এক বছর ধরেই তাঁকে ধর্ষণ এবং শারীরিক ভাবে নির্যাতন করছেন স্বামী চিন্ময়ানন্দ। এমনই অভিযোগ এনেছিলেন শাহজাহানপুরে চিন্ময়ানন্দের কলেজেই আইন পাঠরতা তরুণী। তাঁকে বসতে দেওয়া হল না পরীক্ষায়।
সোমবার অবশ্য কড়া সতর্কতার মধ্যে তাঁর প্রথম সেমিস্টারের ব্যাক পেপারের পরীক্ষায় বসেছিলেন তরুণী। কিন্তু বরেলির মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলে রোহিলখণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় তাঁকে আর বসতে দেওয়া হল না মঙ্গলবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ওই তরুণীর ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি ছিল না।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা তরুণী দাবি করেছিলেন, উত্তরপ্রদেশ পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। ভয় দেখিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ রাখা হয়েছিল। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে চিন্ময়ানন্দর আইনজীবী পাল্টা অভিযোগ এনেছিলেন, ওই ছাত্রী পাঁচ কোটি টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন চিন্ময়ানন্দকে। সেই অভিযোগে ছাত্রীকে গ্রেফতার করে সিট। গ্রেফতার করা হয় চিন্ময়ানন্দকেও।
দু'জনেরই জামিনের আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়। উল্টে অভিযোগকারিণী ছাত্রীকে সাহায্য করার অভিযোগে তাঁর আরও তিন বন্ধু সচিন, সঞ্জয় ও বিক্রমকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। শাহজাহানপুর জেলা আদালত জানায়, স্বামী চিন্ময়ানন্দ, কলেজ ছাত্রী-সহ ধৃত পাঁচজনের ভয়েস রেকর্ড জমা করতে হবে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-কে। সেই ভয়েস রেকর্ড খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কে সত্যি বলছেন, আর কে মিথ্যা।
সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। শাহজাহানপুরের জেলেই বন্দি রয়েছেন ২৩ বছরের তরুণী। জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সোমবারের মতোই মঙ্গলবারও কড়া পাহারায় পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাওয়া হয় ওই তরুণীকে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রধান অমিত সিংহ বলেন, ওই ছাত্রী পরীক্ষা দিতে এলেও, কম অনুপস্থিতির কারণে তিনি অ্যাডমিট কার্ড পাননি।
এত দিন চিন্ময়ানন্দের স্বামী শুকদেবানন্দ আইন কলেজেরই ছাত্রী ছিলেন ওই তরুণী। গ্রেফতার হওয়ার পরে পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শীর্ষ আদালতের নির্দেশে তিনি বরেলি কলেজে ভর্তি হন।