
শেষ আপডেট: 10 December 2023 10:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহুয়া মৈত্রকে চব্বিশে ফের কৃষ্ণনগরে প্রার্থী করা হবে কিনা তা নিয়ে তিন চার মাস আগেও তৃণমূলের একাংশের সন্দেহ ছিল। কিন্তু প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডের পর মহুয়ার অন্তত এই লাভ হয়েছে যে সেই অনিশ্চয়তা আর নেই। বিজেপির সৌজন্য একে তো জাতীয় রাজনীতিতে মহুয়া বড় রকমের প্রচার পেয়ে গিয়েছেন। আবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছেন, "কদিন আর মহুয়াকে বাইরে রাখবে, দু-তিন মাস পর ফের যাবে (পড়ুন লোকসভায়)।" মহুয়াকে ইতিমধ্যে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রীও করেছেন মমতা-অভিষেক।
সুতরাং শেষ মুহূর্তে কোনও নাটকীয় পরিবর্তন না ঘটলে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে মহুয়ার প্রার্থী হওয়া একপ্রকার পাকা।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, মহুয়ার জয়ের সম্ভাবনা কতটা?
ভোটে প্রকৃতপক্ষে কী ফলাফল হবে তা কারও পক্ষে এখনই আন্দাজ করে বলা কঠিন। তবে হ্যাঁ, প্রতিটি লোকসভা আসনেরই একটা চরিত্র থাকে। তা ছাড়া আগের সব ভোটের ফলাফল থেকেও কোনও একটি লোকসভা আসনের ভোটাভুটির ধারা বোঝা যায়।
২০১৯ সালে কৃষ্ণনগর লোকসভায় ৬৩,২১৮ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন মহুয়া। তৃণমূল পেয়েছিল ৬ লক্ষ ১৪ হাজার ভোট। আর ৫ লক্ষ ৫১ হাজার ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী কল্যাণ চৌবে। লোকসভা ভোটে এই ব্যবধান মোটামুটি স্বস্তিজনক। সেবার সিপিএম প্রার্থী শান্তনু ঝা ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোট ও কংগ্রেসের প্রার্থী ৩৮ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। অর্থাৎ বাম কংগ্রেসের মিলিত ভোট ছিল ১ লক্ষ ৫৮ হাজার।
২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের সঙ্গে এই ফলাফলের তুলনা করলেই বোঝা যাবে, উনিশের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির পক্ষে ভোটের মেরুকরণ ঘটেছিল। তার ফলে তৃণমূল আর বিজেপি—দুজনের ভোটই আগের চেয়ে বেড়েছিল। আর ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছিল বামেদের শক্তি।
কারণ, ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী তাপস পাল পেয়েছিলেন ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ভোট। আর সিপিএম প্রার্থী শান্তনু ঝা পেয়েছিলেন ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ভোট। এবং বিজেপি প্রার্থী সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ৩ লক্ষ ২৯ হাজার ভোট।
বামেদের এই ৩ লক্ষ ৬৭ হাজার ভোট কমে ১ লক্ষ ২০ হাজার হয়ে যায় ২০১৯ সালে। মনে করা হচ্ছে, তাদের হিন্দু ভোটের বড় অংশ চলে যায় বিজেপির দিকে। আর সংখ্যালঘু ভোটের অনেকটাই চলে যায় তৃণমূলের কাছে।
২০২১ সালে এসে দেখা যায় বাম ও কংগ্রেসের যৌথ শক্তি কৃষ্ণনগরে আরও কমে গেছে। কারণ, ওই ভোটে তৃণমূল-বিজেপি মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছিল। তার ধাক্কায় কংগ্রেস ও বামেদের সমষ্টিগত ভোট এসে দাঁড়ায় মাত্র ১ লক্ষে। অর্থাৎ উনিশের ভোটের তুলনায় আরও ৫৮ হাজার ভোট কমে যায় তাদের।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফলের হিসাবে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির তুলনায় তৃণমূল এগিয়ে ছিল ১ লক্ষ ১৬ হাজারের বেশি ভোটে। তৃণমূল পেয়েছিল ৬ লক্ষ ৬৪ হাজার ভোট। বিজেপি পেয়েছিল ৫ লক্ষ ৪৮ হাজার ভোট। লক্ষণীয় হল, আগের সব ভোটের থেকে দুজনেরই মোট প্রাপ্ত ভোট বেড়েছিল। সেই ভোট মঙ্গলগ্রহ থেকে আসেনি। বাম-কংগ্রেসের দখল থেকে বেরিয়ে এসেছেই জুড়েছে।
একুশের নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির ভোটের ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত। কিন্তু তার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তৃণমূলের অন্তর্কলহ। দলের টিকিট না পেয়ে চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জেবের শেখ। ওই আসনে ৭৩ হাজার ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। জেবের দ্বিতীয় হয়ে কেটেছিলেন প্রায় ৬২ হাজার ভোট। অর্থাৎ কোন্দল রুখতে পারলে বিধানসভা ভোটের ফলাফলের হিসাবে তৃণমূলের প্রায় ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকার কথা।
এবার গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটে নদিয়ায় সিপিএম ভালই ফল করেছে। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা ভোটে পুনরায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মেরুকরণ ঘটলে সেই ভোট সিপিএমের পক্ষে ধরে রাখা মুশকিল। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। সেগুলি হল, চোপড়া, কালীগঞ্জ ও পলাশিপাড়া। একুশের ভোটের ফলাফল দেখলেই বোঝা যাবে যে চোপড়ায় প্রথম হয়েছিল তৃণমূল। দ্বিতীয় হয়েছিল বিক্ষুব্ধ তৃণমূল।
কালীগঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূলের নাসিরুদ্দিন আহমেদ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন। আর পলাশিপাড়ায় মানিক ভট্টাচার্য জিতেছিলেন ৫১ হাজারের বেশি ভোটে।
এবার লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোটের সম্ভাবনা প্রবল। তাতে সংখ্যালঘু ভোটের ষোল আনা জোড়াফুলের দিকে যাবে বলেই আশাবাদী কালীঘাট।
সবমিলিয়ে তাই কৃষ্ণনগরে এখনও অ্যাডভান্টেজে রয়েছে মহুয়া মৈত্র। প্রকৃত ফলাফল কী হবে তা লোকসভা নির্বাচনেই দেখা যাবে।
এই ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত। কিন্তু তার অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তৃণমূলের অন্তর্কলহ। দলের টিকিট না পেয়ে চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি জেবের শেখ। ওই আসনে ৭৩ হাজার ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। জেবের দ্বিতীয় হয়ে কেটেছিলেন প্রায় ৬২ হাজার ভোট। অর্থাৎ কোন্দল রুখতে পারলে বিধানসভা ভোটের ফলাফলের হিসাবে তৃণমূলের প্রায় ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকার কথা।
এবার গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটে নদিয়ায় সিপিএম ভালই ফল করেছে। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভা ভোটে পুনরায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মেরুকরণ ঘটলে সেই ভোট সিপিএমের পক্ষে ধরে রাখা মুশকিল। কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। সেগুলি হল, চোপড়া, কালীগঞ্জ ও পলাশিপাড়া। একুশের ভোটের ফলাফল দেখলেই বোঝা যাবে যে চোপড়ায় প্রথম হয়েছিল তৃণমূল। দ্বিতীয় হয়েছিল বিক্ষুব্ধ তৃণমূল।
কালীগঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূলের নাসিরুদ্দিন আহমেদ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন। আর পলাশিপাড়ায় মানিক ভট্টাচার্য জিতেছিলেন ৫১ হাজারের বেশি ভোটে।
এবার লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোটের সম্ভাবনা প্রবল। তাতে সংখ্যালঘু ভোটের ষোল আনা জোড়াফুলের দিকে যাবে বলেই আশাবাদী কালীঘাট।
সবমিলিয়ে তাই কৃষ্ণনগরে এখনও অ্যাডভান্টেজে রয়েছে মহুয়া মৈত্র। প্রকৃত ফলাফল কী হবে তা লোকসভা নির্বাচনেই দেখা যাবে।