
শেষ আপডেট: 13 October 2022 04:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গৃহবধূ নির্যাতনের মামলার (domestic violence) দ্রুত নিষ্পত্তি করতে উদ্যোগী হল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay High Court)। ওই আদালতের দুই সিনিয়র বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছে, গৃহবধূ নির্যাতনের মামলার পাহাড় জমেছে আদালতগুলিতে। কারণ, ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪৯৮ এ (498 A) ধারায় আপোসের মাধ্যমে মীমাংসার কোনও সুযোগ নেই। ফলে অভিযোগকারিণী মামলা প্রত্যাহার করে নিতে চাইলেও আদালতের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া পেরোতে হচ্ছে। ফলে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অভিযুক্তরা। বহু ক্ষেত্রেই তাঁরা নিরীহ, নির্দোষ মানুষ।
হাইকোর্টের অভিমত, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ৪৯৮এ ধারার উপযুক্ত সংশোধন করা। যাতে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারিণী আদালতকে সাক্ষী রেখে নিজেদের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে নিতে পারেন আইনজীবী মারফত। এতে মামলারও দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।
বিচারপতি রেবতী মোহিতে দেরে এবং পৃথ্বীরাজ চৌহানের বেঞ্চ বলেছে, এই ধারার মামলা নিয়ে দিনে গড়ে দশটি করে আবেদন বম্বে হাইকোর্টে জমা হয় আপোস মীমাংসা চেয়ে। সম্প্রতি হাইকোর্ট পুণের এক দম্পতির মীমাংসা সূত্র অনুমোদন করেছে। আক্রান্ত মহিলাকে স্বামীর পরিবার ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ দিতে সম্মত হয়। এছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদে সম্মত হয় দু'পক্ষ। কিন্তু আদালতের সম্মতি মিলতে পেরিয়ে যায় দীর্ঘ সময়।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর ২০২০ - র রিপোর্ট উল্লেখ করে, আদালত বলেছে যে ওই বছর ৪৯৮এ ধারার অধীনে মোট এক লাখ ১১ হাজার ৫৪৯টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬ হাজার ১৫১টি অভিযোগকে পুলিশ বাতিল করেছে কারণ, প্রাথমিক অনুসন্ধানে সেগুলির সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
'অর্থাৎ, ১৪.৪ শতাংশ মামলা উপযুক্ত মনে করেনি। ৪৯৮এ ধারার অধীনে ৯৬ হাজার ৪৫৭ জন পুরুষ, ২৩ হাজার ৮০৯ জন মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়। এই ধারার অধীনে মোট গ্রেফতারের সংখ্যা এক লক্ষ ২০ হাজার ৩০৬ জন। আদালত বিচার করে ১৮ হাজার ৯২৬টি মামলার। যার মধ্যে ১৪ হাজার ৩৪৯টি মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পায় এবং ৩ হাজার ৪২৫ টিতে দোষী সাব্যস্ত হয়।
বম্বে হাইকোর্টের বক্তব্য, এই পরিসংখ্যান থেকেও স্পষ্ট, ৪৯৮এ ধারাটির সংশোধন জরুরি। যাতে আপোসের মাধ্যমে মীমাংসা সম্ভব হয়।
বাংলার সন্ত্রাস: রীতি ভেঙে সরব এবার উপরাষ্ট্রপতি ধনকড়, বললেন, হিংসা কোথাও কাম্য নয়