
শেষ আপডেট: 8 April 2024 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: "খুন কোনও সংখ্যাতত্ত্বের বিষয় নয়, খুন হয়ে থাকলে অপরাধীকে সাজা পেতেই হবে" পিংলায় নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়িতে গিয়ে বললেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস।
গত মার্চ মাসের ২৩ তারিখ খড়্গপুর লোকাল থানার বারবাসী গ্রামে ধান জমি থেকে উদ্ধার হয়েছিল বিজেপি কর্মী শান্তনু ঘোড়ুইয়ের দেহ। এই ঘটনার পরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনেছিল বিজেপি। সোমবার নিহত সেই কর্মী শান্তনু ঘোড়ুইয়ের বাড়িতে গেছিলেন রাজ্যপাল। সেখানে গিয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রায় আধঘণ্টা নিহত বিজেপি কর্মীর বাড়িতেই ছিলেন রাজ্যপাল। তাঁকে কাছে পেয়ে পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন । সঠিক বিচারের দাবিতে রাজ্যপালের পায়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করতে থাকেন মৃতের মা ও স্ত্রী। একই সঙ্গে এলাকার লোকজন দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি তোলেন। এরপরেই রাজ্যপাল পরিবারের সদস্যদের একটি লিখিত অভিযোগ তাঁর কাছে জমা দিতে বলেন। পুরো বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে নিহতের পরিবারকে আশ্বস্ত করেন রাজ্যপাল। গর্ভনরের কাছে পরিবারের লোকজনদের দাবি, তাঁদের ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্ত হোক এবং সঠিক ভাবে ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে দ্রুত ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করুক রাজ্যপাল।
এদিন রাজ্যপাল নিহতের নাবালক ছেলেকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেন, দেখুন এই ছেলেটিকে, সে তাঁর বাবাকে হারিয়েছে, পরিবারে দুই মহিলা রয়েছেন। যাঁদের একজন তাঁর স্বামীকে ও অন্যজন তাঁর ছেলেকে হারিয়েছেন। এই সমস্ত কিছুর মধ্যে কোনও মানুষের হাত রয়েছে। এই ঘটনায় খুনের অভিযোগ উঠে আসছে। খুন কোনও সংখ্যাতত্ত্বের বিষয় নয়, খুন হয়ে থাকলে অপরাধীকে সাজা পেতেই হবে।"
যদিও এই ঘটনার পর থেকে তৃণমূলের দাবি, ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে অসুস্থতায়। ভোটের সময়ে বিজেপি সেই মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে। কিন্তু সেকথা বিজেপি মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, ওই কর্মীকে হুমকি দিচ্ছিল তৃণমূল। তারাই খুন করেছে।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে তাঁদের অভিযোগ নিতে চায়নি। পরে বিজেপি কর্মীরা গেলে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এরপরই পিংলার এই ঘটনা নিয়ে জলঘোলা হতে থাকে। পরিবারের আরও অভিযোগ, তাঁদের আপত্তি সত্ত্বেও পুলিশ জোর করে ময়নাতদন্ত করেছে। সেই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তাঁরা মানেন না। কারণ তাঁরা চেয়েছিলেন কেন্দ্রে নিয়ন্ত্রণাধীন কোনও হাসপাতালে ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে ময়নাতদন্ত করা হোক। কিন্তু পুলিশ তা করেনি। তাই দেহ নেননি তাঁরা। ফলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মর্গেই ওই বিজেপি কর্মীর দেহ রাখা রয়েছে এখনও। ইতিমধ্যে এই সমস্ত দাবি জানিয়ে বিজেপির সাহায্যে পরিবার হাইকোর্ট একটি মামলা দায়ের করেছে।