উত্তরবঙ্গের ছবিটা উল্টো। ২৮ জুলাই পর্যন্ত সেখানে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭১০.৭ মিমি, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ হওয়া উচিত ছিল ১০০৫.৩ মিমি অর্থাৎ প্রায় ২৯ শতাংশ কম।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 29 July 2025 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃষ্টিতে ভিজছে শহর। জুলাই মাসে পাঁচ বছরের মধ্যে রেকর্ড বৃষ্টি নেমেছে কলকাতায়। জুনে তেমন একটা বৃষ্টির দেখা না মিললেও জুলাই-এ এক লাফে বেড়েছে বৃষ্টির মাত্রা।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানালেন, চলতি মাসে শহরে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫৯৩.৬ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিক বৃষ্টির (৩৬২ মিমি) তুলনায় যা প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি। গত বছর এই সময় বৃষ্টির অঙ্ক ছিল মাত্র ৩২৮.৪ মিমি।
হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা এ বার অনেকটাই সক্রিয়। ২৮ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬৮০.৮ মিমি, যেখানে স্বাভাবিক পরিমাণ ৫৭১.৮ মিমি। অর্থাৎ প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার কিছু অংশে ইতিমধ্যেই অতিবৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের ছবিটা উল্টো। ২৮ জুলাই পর্যন্ত সেখানে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭১০.৭ মিমি, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ হওয়া উচিত ছিল ১০০৫.৩ মিমি অর্থাৎ প্রায় ২৯ শতাংশ কম।
আলিপুর জানাচ্ছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব আরব সাগর থেকে দক্ষিণ বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখা গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড়, ঝাড়খণ্ড ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে বিস্তৃত। দিল্লি থেকে ডালটনগঞ্জ হয়ে দিঘা পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমী অক্ষরেখা সক্রিয় হয়েছে বঙ্গোপসাগরের উপরও।
দক্ষিণবঙ্গে একাধিক জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ব্যারাকপুরে ১১০ মিলিমিটার, কাঁথিতে ১০০ মিলিমিটার, আমতা, রামপুরহাট, তিলপাড়া ব্যারেজে ৯০ মিলিমিটার, ক্যানিংয়ে ৮০ মিলিমিটার এবং আলিপুরে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রাজনগর, সিউড়ি, উলুবেড়িয়া ও বাঁকুড়াতে ৬০ মিলিমিটার, দমদমে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। লাভা, মানসাং ও পেডংয়ে ৭০ মিলিমিটার, দার্জিলিং ও আলিগড়ে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আলিপুর জানাচ্ছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। দমকা হাওয়ার গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পূর্ব বর্ধমানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে।
বুধবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বীরভূম, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান এবং দুই ২৪ পরগনায়। তবে বৃহস্পতিবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কমে আসবে বলেই পূর্বাভাস। বেশিরভাগ এলাকায় আকাশ পরিষ্কার কিংবা আংশিক মেঘলা থাকবে। হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কয়েকটি জায়গায়।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। আগামী শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। যার জেরে তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পেতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদেরা।