দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলবন্দি কবি ও সমাজকর্মী ভারাভারা রাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জেলের ভিতরেই। এলগার পরিষদ মামলায় অভিযুক্ত কবি প্রায় দু'বছর ধরে নবি মুম্বইয়ের তালোজা জেলে বন্দি রয়েছেন। ৮০ বছর বয়সি ভারভারা রাওয়ের অসুস্থতার খবর মিলেছিল গত সপ্তাহেই। এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে দক্ষিণ মুম্বইয়ের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানেই কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ভিমা-কোরেগাঁও এলাকায় এক দলিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে ছড়িয়েছিল অশান্তি। দক্ষিণপন্থী একটি গোষ্ঠী এবং দলিতদের সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে উঠেছিল মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এই ঘটনার পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ন’জন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করে মহারাষ্ট্র পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধেই এলগার পরিষদ মামলা রুজু হয়। তার চার্জশিটে পুলিশ অভিযোগ করে, ওই কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। যদিও এ বিষয়ে কোনও সাক্ষ্যপ্রমাণ এখনও হাজির করতে পারেনি পুলিশ।
২০১৮ সালের অগস্ট মাসে পুনের পুলিশ প্রথম গ্রেফতার করেছিল তাঁকে। তবে আদালতের নির্দেশের পরে সে বার তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল প্রমাণের অভাবে। ওই বছরের নভেম্বরে তাঁকে ফের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে পুনের ইরাভাদা কারাগারে বন্দি রাখার পরে তাঁকে মুম্বইয়ের জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। এখনও কোনও সাক্ষ্যপ্রমাণ মেলেনি রাওয়ের বিরুদ্ধে।
অথচ এক মাস আগেই বিশেষ আদালতে খারিজ হয়ে গেছে কবি ভারাভারা রাওয়ের জামিনের আবেদন। বম্বে হাইকোর্টে আবারও আবেদন করা হলেও তা এখনও এজলাসে ওঠেনি। শুধু তাই নয়, ২০১৮ থেকে বারবার অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য আবেদন করেছেন কবি নিজে। ২৭ জুন খারিজ হয়ে গেছে তা।
শেষ শুনানিতেই বৃদ্ধ কবির শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা এবং করোনা সংক্রমণের আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল আদালতে। কিন্তু সে সব ধর্তব্যের মধ্যে আনেননি বিচারক। শুধু তাই নয়, জামিন দূরের কথা, পরিবারের দাবি অসুস্থ ও বৃদ্ধ ভারাভারা রাওয়ের চিকিৎসাটুকুও করাচ্ছে না হাসপাতাল। অভিযোগ, তাঁকে জেলেই মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শেষমেশ বারবার পরিবার ও আইনজীবীদের তরফে আবেদন জানানোর পরে মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে। জেজে হাসপাতালের ডিন ডক্টর রণজিৎ মানকেশ্বর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারই রাওয়ের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসে। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর চিকিৎসা চলছে।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে প্রায় চল্লিশ জন বিশিষ্ট লেখক করোনার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে রাওয়ের মুক্তির অনুরোধ করেছিলেন। সহবন্দিরাও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে বলেছিলেন, তিনি ধুঁকছেন অসুস্থতায়।
কবি ভারভারা রাওয়ের ভগ্নিপতি এন বেণুগোপাল জানিয়েছেন, তালোজা জেল কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হল তাঁকে। তিনি ইতিমধ্যেই ভুল বকছেন। অসঙ্গত কথা বলছেন। ওঁর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। ওঁকে ধরে ধরে হাঁটাতে হয়, এমনকি দাঁতটাও মাজিয়ে দিতে হয়। তার উপরে করোনা বাসা বেঁধেছে শরীরে। এ যেন কবিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, অভিযোগ তাঁর।