
শেষ আপডেট: 10 May 2023 09:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামীর মৃত্যুর পর বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন স্ত্রী। 'বিষাদ' নিয়েই শিশুপাঠ্য বইও লিখে ফেলেছিলেন তিনি (Woman Wrote Book On Grief)। সেই ঘটনার প্রায় বছর ঘোরার পর জানা গেল, স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী তিনি নিজেই (woman kills husband)। পানীয়ের মধ্যে বিষ মিশিয়ে তাঁকে খুন করেছিলেন স্ত্রীই।
ঘটনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ প্রদেশের। ২০২২ সালের ৪ মার্চ মৃত্যু হয় এরিক রিচিনস নামে এক ব্যক্তির। স্বামীকে নড়াচড়া করতে না দেখে তাঁর স্ত্রী সেদিন রাত ৩.২০ নাগাদ খবর দেন পুলিশকে। জানান, এরিকের হাত পা একেবারে ঠান্ডা হয়ে গেছে। দেরি না করে ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায় পুলিশ। দেখা যায়, ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে এরিকের। তাঁর স্ত্রী কৌরি ডারডেন রিচিনস জানান, স্বামীকে তার আগে একটি মিক্সড ভদকা ড্রিঙ্ক দিয়েছিলেন তিনি। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি আবিষ্কার করেন, এরিক নড়াচড়া করছেন না।
সেই ঘটনার মেডিকেল রিপোর্টে জানা গেছে, ফেন্টানিল নামক এক ধরনের রাসায়নিক ড্রাগের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে এরিকের। রাসায়নিকটির যতটা পরিমাণ মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মৃত্যুর কারণ হতে পারে, শরীরে পাওয়া গেছিল তার পাঁচগুণ বেশি।
সেই ঘটনার তদন্তে উঠে আসে আরও নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক ব্যক্তির সঙ্গে মেসেজের মাধ্যমে লাগাতার কথা হত এরিকের স্ত্রীর। ওই ব্যক্তি মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল। জানা যায়, পিঠে ব্যথার জন্য তার কাছে কিছু ওষুধ চেয়ে পাঠিয়েছিলেন কৌরি। তাঁকে প্রাথমিকভাবে কিছু ওষুধ পাঠায়ও সেই ব্যক্তি। কিন্তু পরে আরও 'কড়া' কিছু চেয়ে পাঠান কৌরি।
এরপরেই ফেন্টানিল নামে ওই ড্রাগ কৌরির কাছে এসে পৌঁছায়। দিন দুয়েক পরে ছিল ভ্যালেন্টাইনস ডে। পুলিশ জানতে পারে, সেদিনের নৈশভোজের পরেই প্রথম অসুস্থ হয়ে পড়েন এরিক।
এর দু সপ্তাহ পরে আরও ফেন্টানিল আনান কৌরি। তারপর ৪ মার্চ পুলিশকে ফোন করে জানান, স্বামী সাড়াশব্দ করছেন না। পুলিশ এসে এরিককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। স্বামীর মৃত্যুর পর একাধিক বই লিখেছিলেন কৌরি। সবগুলিই শিশুপাঠ্য। 'আর ইয়ু উইথ মি' নামের বইটির মূল উপজীব্য ছিল, কীভাবে প্রিয়জনকে হারানোর পর নিজেকে সামলাতে হয়, সেকথা শিশুদের শেখানো।
একটি সাক্ষাৎকারে কৌরি জানিয়েছিলেন, বইটি তাঁর এবং এরিকের ৩ সন্তানের কথা ভেবে লেখা তো বটেই, তবে সেই সঙ্গে অন্যান্য শিশুরা যারা একই ঘটনার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্যও লেখা সেটি।
যদিও সেসবের কয়েকদিন পরেই পাল্টে গেল সবটা। স্বামীর মৃত্যুর জন্য তাঁকেই দায়ী করে কৌরির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই খুনের অভিযোগ এনেছে পুলিশ।
৭ বছরে ৩০ শিশুকে ধর্ষণ করে খুন, ‘শিকার’ খুঁজতে দিনে ৪০ কিলোমিটার হাঁটত রবিন্দর