দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমার বিরুদ্ধে কেস তুলে নাও। নইলে প্রাণে মেরে দেব। এক ব্যক্তিকে এভাবেই শাসিয়েছিল আচমান উপাধ্যায়। তার ১৫ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ছিল আচমানের বিরুদ্ধে। এর পরেও সে দিব্যি বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। সে যে হুমকি দিচ্ছে একথা জানার পরেও তাকে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দিয়েছে। সোমবার আচমান ধর্ষিতার বাবাকে গুলি করে। তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের ঘটনা।
যোগী আদিত্যনাথ শাসিত উত্তরপ্রদেশে এর আগে উন্নাওয়ে ধর্ষক তথা বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের লোকজনকে গাড়ি চাপা দিয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তারপরে ফের ওই ধরনের ঘটনার কথা শোনা গেল।
ধর্ষিতা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। গতবছর অগস্ট মাসে সে ধর্ষণের অভিযোগ করে। পুলিশ আচমানকে গ্রেফতার না করলেও তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল। তখন থেকে সে ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি দিতে থাকে। সে নাকি গত সপ্তাহে শাসিয়েছিল, আর সাতদিনের মধ্যে মামলা তুলে নাও। না হলে তোমাদের পরিবারের কেউ না কেউ মরবে শীঘ্রই। পুলিশকে একথা জানানো সত্ত্বেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। সোমবার যখন ধর্ষিতার বাবা বাড়ি ফিরছেন, আচমান তাঁকে গুলি করে।
তাঁর মৃত্যুর পরে তিন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুলিশের পদস্থ কর্তা সতীশ গণেশ জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে ধরার জন্য পুলিশের পাঁচটি টিম তৈরি হয়েছে। তার সম্পর্কে কেউ খবর দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা।
সরকারি তথ্যে জানা যায়, সারা দেশের মধ্যে উত্তরপ্রদেশেই আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। মহিলাদের ওপর অপরাধও ওই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি।