দ্য ওয়াল ব্যুরো : নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনের সময় উত্তরপ্রদেশে বেশ কিছু সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়। সেজন্য তখনই যোগী সরকার অভিযুক্তদের থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করার জন্য অর্ডিন্যান্স আনে। ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টি বিল আকারে শনিবার বিধানসভায় পেশ করা হয়। তার নাম ইউপি রিকভারি অব ড্যামেজেস টু পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট প্রপার্টি বিল ২০২০। এছাড়া মহামারী নিয়ন্ত্রণ ও গোরক্ষা সংক্রান্ত বিলও এদিন বিধানসভায় পেশ করা হয়। কিন্তু তা নিয়ে কোনও আলোচনা হতে পারেনি। বিধানসভায় বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। সেই হট্টগোলের মধ্যেই এদিন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে পাশ হয়ে যায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল।
এদিন বিধানসভার অধিবেশন বসার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীরা সরব হন। তাঁরা স্লোগান দিতে দিতে ওয়েলে নেমে আসেন। তাঁদের হাতে ছিল ব্যানার। আইন-শৃঙ্খলার পাশাপাশি করোনা অতিমহামারী ও বন্যা রুখতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের 'ব্যর্থতার' বিরুদ্ধেও তাঁরা সরব হন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পাল্টা বলেন, বিরোধীদের সামনে কোনও ইস্যু নেউ। তাঁরা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চান।
কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "যারা দিল্লিকে ধ্বংস করেছে, তারা এখন উত্তরপ্রদেশ নিয়ে কথা বলতে চায়।" পরে তিনি সনিয়াকে কটাক্ষ করে বলেন, "রোম কি ভাষা বলনেওয়ালে লোগ রাম রাম চিল্লাতে হ্যায়।"
যোগীর দাবি, "অযোধ্যাকে কুম্ভের মতো বিশ্বের সামনে তুলে ধরা দরকার।" এ বছরে হরিদ্বারে কুম্ভমেলা হওয়ার কথা আছে। যোগী ইঙ্গিত দেন, কোভিড অতিমহামারীর প্রেক্ষিতে মেলার দিনক্ষণ পরিবর্তন করা হতে পারে।
উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার বাদল অধিবেশন সোমবার অবধি চলার কথা ছিল। কিন্তু এদিনই তা অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি করে দেওয়া হয়। বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার।
গত কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টি ও তার জেরে বন্যা পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরপ্রদেশ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮৭৫টি গ্রাম। এই নিয়ে মোট ১৬টি জেলায় প্রভাব পড়েছে বন্যার। নিচু এলাকাগুলি জলের তলায়।
আবহাওয়া দফতর বলছে, স্বাভাবিকের চেয়ে ১১ গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে। শহর অঞ্চলগুলিতে তীব্র যানজটে বেহাল নগর জীবন। গাড়ির লাইন পড়ে গেছে সড়কগুলিতে। কোনও কোনও রাস্তা নদীর মতোই ভরে আছে জলে। গ্রামজীবনের অবস্থা শোচনীয়। ঘরছাড়া কয়েক হাজার মানুষ।