
শেষ আপডেট: 14 October 2023 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: তর্পণ করতে গিয়ে গঙ্গার বানে তলিয়ে গেলেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে দুজন এখনও নিখোঁজ। হিন্দমোটরের বিবি স্ট্রিট ঘাটে এই দুর্ঘটনার পরেই তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
শনিবার ভোর থেকেই হুগলি জেলার গঙ্গার ঘাটগুলোতে তর্পণের জন্য ভিড় জমান মানুষ। উত্তরপাড়া-হিন্দমোটর অঞ্চলেও ভিড় ছিল প্রতিটি ঘাটে। হিন্দমোটরের বিবি স্ট্রিট ঘাটে তর্পণ চলাকালীন আচমকা বানে তলিয়ে যান কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান পাঁচজন বানের জলে ভেসে যান। খবর পেয়ে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ হাজির হয়। চন্দননগর পুলিশের ডিসিপি শ্রীরামপুর অরবিন্দ আনন্দ, এসিপি আলি রাজা ও উত্তরপাড়া থানার আইসি পার্থ সিকদার ঘাটে পৌঁছন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বান আসার সময় জানা থাকলেও পুলিশ সতর্ক করেনি। বান আসার পরে বাঁশি বাজানো হয়। ফলে জলে স্নান করতে নামা লোকজন ভেসে যান।
স্বপন বাহাদুর নামে হিন্দমোটরের এক বাসিন্দা জানান, তর্পণের সময় ভেসে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “হঠাৎ বান এসে যায়। জলের ঘূর্ণিতে পরে যাই। কোনওভাবে প্রাণে বেঁচেছি।”
দুর্ঘটনা নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক টানাপড়েন। স্থানীয় বিজেপি নেতা পঙ্কজ রায়ের অভিযোগ, প্রশাসন সব জেনেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আগে থেকে সতর্ক করা হয়নি। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করতেও দেরি হয়েছে। উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব বলেন, “একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। এখন কার দোষ কার গুণ সেটা বিচার করার সময় নয়। যাঁরা নিখোঁজ তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের যেমন দায়িত্ব থাকে, তেমন যারা গঙ্গায় নামেন তাদেরও একটা দায়িত্ব থেকে যায়। কতজন তলিয়ে গেছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা কেউ বলছেন দুজন, কেউ বলছেন তিনজন, কেউ বলছেন পাঁচজন।” ঘটনার খবর শুনে তিনিও সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গার ঘাটে যান।
চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি অবশ্য জানিয়েছেন, দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী নামানো হয়েছে। তারা তল্লাসি করছে। পাশের ঘাটগুলোতেও মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।