
শেষ আপডেট: 27 November 2020 06:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ৩ নভেম্বর আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে। তার তিন সপ্তাহেরও বেশি পরে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, একটা শর্তে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হার স্বীকার করতে রাজি আছেন। তা হল, বাইডেনকে সরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করতে হবে। ট্রাম্প এখনও মনে করেন, বাইডেন জোচ্চুরি করে ভোটে জিতেছেন। কিন্তু সরকারিভাবে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলে ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছেড়ে চলে যাবেন।
ভোটের ফল বেরোন শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প জালিয়াতির অভিযোগ করে আসছেন। তাঁর দাবি, ব্যালট চুরি করা হয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে ভোটিং মেশিন থেকে লক্ষ লক্ষ ভোট মুছে ফেলা হয়েছে। যদিও আমেরিকার নিরাপত্তারক্ষী সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ভোটে কোনও অনিয়ম হয়নি। ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ট্রাম্প কয়েকটা মামলাও করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পর্যবেক্ষকরা অনেকে মনে করছেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ২০২৪ সালের ভোটে ফের দাঁড়াতে চান। সেজন্য এখন থেকেই চেষ্টা করছেন।
জো বাইডেন প্রেসিডেন্টে দায়িত্ব নেবেন ২০ জানুয়ারি। বৃহস্পতিবার তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ইলেকটোরাল কলেজ যদি বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করে, আপনি কি পরাজয় স্বীকার করে নেবেন? তিনি বলেন, নিশ্চয়। আপনারা জানেন, ওই একটি ক্ষেত্রেই আমি পরাজয় স্বীকার করব। এর পরেই ট্রাম্প বলেন, "ইলেকটোরাল কলেজ যদি বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করে, তাহলে তাঁরা ভুলই করবে। আমার মনে হয়, ২০ জানুয়ারির মধ্যে অনেক কিছু ঘটে যাবে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর বৈঠকে বসবে ইলেকটোরাল কলেজ। তখনই সরকারিভাবে বাইডেনের জয় ঘোষণা করা হবে। বাইডেন পেয়েছেন ইলেকটোরাল কলেজের ৩০৬ টি ভোট। ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২ টি।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ফের বলেন, ভোটে জোচ্চুরি হয়েছে। তাঁর মতে, আমেরিকায় ভোটের যে পরিকাঠামো আছে, তা যে কোনও তৃতীয় বিশ্বের দেশের সঙ্গে তুলনীয়। এর আগে তিনি টুইট করে বলেছিলেন, 'হান্ড্রেড পার্সেন্ট রিগড ইলেকশন।' আগামী প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, কেউ ভোটের ফলাফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করলে আমেরিকানরা বরদাস্ত করবেন না। একইসঙ্গে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে আহ্বান জানান, করোনা অতিমহামারী রুখতে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে।
অতিমহামারীতে আমেরিকায় ২ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। সম্প্রতি দিনে মারা যাচ্ছেন ২ হাজার জনের বেশি।