
শেষ আপডেট: 20 November 2023 14:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর খুনের পর থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল জয়নগরের দলুয়াখাঁকি গ্রাম। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি বাড়ি। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করল জয়নগর পুলিশ। অভিযুক্তদের নাম নজরুল মণ্ডল, আকবর ঢালি, আমানুল্লাহ জমাদার। তিনজনেই তৃণমূলকর্মী হিসাবে পরিচিত। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের মামলার পাশপাশি ভাঙচুরের ঘটনায় আলাদা মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
পুলিশের অনুমান, নেতা খুন হওয়ার পরে প্রতিশোধ নিতে গোটা গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল এই তিনজন। সেদিন ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনিসুর রহমান লস্করের বাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় ১০ থেকে ১৫টি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অনেকে নিজেদের সিপিএম সমর্থক বলে দাবি করলেও বাকিরা কেউ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
সোমবার দলুয়াখাঁকি গ্রামে যান যান অম্বিকেশ মহাপাত্র সহ সাত প্রতিনিধি দল। তাঁদের পুলিশ গ্রামের ঢুকতে দেয়নি। মনসাতলার নামে এক জায়গায় পুলিশ তাঁদের রাস্তা আটকায়। কেন তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না গ্রামে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে পুলিশের দাবি, বহিরাগত কাউকেই এখন গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। রবিবার ত্রাণ দিতে গেলে সিপিএমের প্রতিনিধিদেরও ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
গত ১৩ নভেম্বর সকালে নামাজ পড়তে পাড়ার মসজিদে যাচ্ছিলেন তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্কর। দুটি বাইকে করে দুষ্কৃতীরা পিছন থেকে তাঁকে ধাওয়া করে। এরপর কাছে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সইফুদ্দিনের। এরপরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দলুয়াখাঁকি গ্রাম। স্থানীয়রা শাহরুল ও সাহাবুদ্দিন নামে দুই দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করে বেধড়ক মারধর করে। গণধোলাইয়ে সাহাবুদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ গিয়ে শাহরুলকে গ্রেফতার করে।
এই খুনের ঘটনার পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দলুয়াখাঁকি গ্রাম। আনিসুর লস্কর নামে এক সিপিএম কর্মীর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। শুধু আনিসুরের বাড়ি নয়, গ্রামের একের পর এক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শাসক দলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেতা খুনে মূল অভিযুক্ত আনিসুর, তার এক সঙ্গী ও শাহরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জেরা করে বাকি অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।