
শেষ আপডেট: 16 January 2024 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালি কাণ্ডের পর ১১ দিন অতিক্রান্ত। ইডির অফিসারদের মারধরের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান এখনও অধরা। সোমবারের পর মঙ্গলবারও এ ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। একই সঙ্গে প্রভাবশালী শাহজাহানকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে পরোক্ষে পুলিশকে ডেডলাইনও বেঁধে দিলেন।
এদিন সওয়াল পর্বে রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, "আমি আশা করব আগামী শুক্রবার এই সময়ের মধ্যেই পুলিশ অবশ্যই নিজেদের সেরা তদন্ত করে মূল মাস্টারমাইন্ড তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করবে।"
এখানেই না থেমে নিজের এমন পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিচারপতি। তিনি বলেন, "রাজ্যের তদন্তকারী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অবশ্যই রাজ্য এবিষয় নজর রাখবে। আগামী শুক্রবার মামলার পরবর্তী শুনানি দুপুর সাড়ে ১২টা। এই সময়ের মধ্যে পুলিশ কী তদন্ত করল জানাতে হবে।"
একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে অর্থাৎ শেখ শাহজাহানের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অবিলম্বে সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের তদন্ত বন্ধ করে অবিলম্বে এনআইএ বা সিবিআইকে ঘটনার তদন্তভার দেওয়ার দাবি জানান ইডির আইনজীবী। তাঁরা পুনরায় ঘটনাস্থলে অর্থাৎ শাহজাহান শেখের বাড়িতে যেতে চান কিনা, জানতে চান বিচারপতি। উত্তরে ইডি জানায়, তাঁরা শাহজাহানের খোঁজে ফের তল্লাশি চালাতে চান। এই সময় রাজ্যের উদ্দেশে বিচারপতি জানতে চান, ইডি যদি ফের ঘটনাস্থলে যায়, রাজ্য কি সহযোগিতা করবে? রাজ্যের তরফে সম্মতি জানানো হয়।
এই সময়ই রাজ্য পুলিশের তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইডির আইনজীবী আদালতকে বলেন, "শাহজাহান তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে অথচ পুলিশ তাঁর হদিশ পাচ্ছে না।" এরপরই ঘটনাস্থলে সিসিটিভি বসানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি।
এদিন শুনানির শুরুতেই সরকারি আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি সেনগুপ্ত জানতে চান, "মূল অভিযুক্ত এখন গ্রেফতার হয়নি, পুলিশ কী করছে?" সরকারি আইনজীবী জানান, মঙ্গলবার ভোরেই আরও তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত মোট ধৃতের সংখ্যা সাতজন।
এরপরই রাজ্য পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতিকে বলতে শোনা যায়, ""শেখ শাহজাহান কতখানি প্রভাবশালী তা ইডি আধিকারিকদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় স্পষ্ট। শাহজাহান এতটাই প্রভাবশালী যে রাজ্যের পুলিশ তাঁর নাগাল পাচ্ছে না।"