
শেষ আপডেট: 11 June 2023 10:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ ভারতে মানুষের সঙ্গে হাতিদের সংঘাত নতুন নয়। বারবারই হাতির হানায় নানারকম সমস্যায় পড়েছে মানুষ আবার মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রকৃতি-পরিবেশের প্রতি অজ্ঞানতা হাতিদের বিপদের কারণ হয়েছে। সম্প্রতি এক হাতি এমনই একটি কাণ্ড ঘটিয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন প্রাক্তন পরিবেশমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তিনি লিখেছেন, 'এমন একটি গল্প শেয়ার করছি যা আমাদের কেবল স্তম্ভিত করে না, রীতিমতো শ্বাস বন্ধ করে দেয়!'
কী সেই গল্প?
জয়রাম লিখেছেন, এবছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখে একটি মাখনা অর্থাৎ পুরুষ হাতি ধরা পড়েছিল তামিলনাড়ুর ধর্মপুরীতে। জনপদগুলির ক্ষতি করছিল সে। পুরুষ হাতিটির দাঁত ছিল না। সেটিকে ধরে বন দফতরের তরফে পাঠানো হয় আন্নামালাই টাইগার রিজার্ভে।

পশ্চিমদিকের নিচু পর্বত গিরিখাত পালঘাট গ্যাপ থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে কেরলে অবস্থিত এই অরণ্য। পালঘাটের মতো আরও নানা ঘাট এভাবেই তামিলনাড়ু এবং কেরলকে সংযুক্ত করে। শুধু তাই নয়, এই ঘাটগুলিই মানুষের জনজীবন ও পশুপাখিদের জগতের মধ্যে জৈব-ভৌগোলিক বেড়া হিসেবে রয়েছে দীর্ঘ যুগ ধরে। এভাবেই পালগাট পার করে বহু হাতিকেই তামিল জনপদ থেকে ছেড়ে আসা হয়েছে আন্নামালাইয়ে।
তবে ২১ ফেব্রুয়ারি এমন একটা ঘটনা ঘটেছে, তাতে সবাই বিস্মিত। ওই মাখনা হাতিটি টাইগার রিজার্ভ থেকে বেরিয়ে আসে এবং সঠিক পথ আন্দাজ করে, ক্রমাগত উত্তরে চলতে শুরু করে। পথে একাধিক ঘন জনবসতি পড়েছে, যা হু হু করে পেরিয়ে গিয়েছে সে, ভাঙচুর করতে করতে। রীতিমতো উন্মত্তের মতো হেঁটেছে সে এবং মাত্র দু'দিনের মধ্যে পুরো পালঘাট গ্যাপটি অতিক্রম করে, কোয়ম্বত্তুর পেরিয়ে মেট্টুপালায়মের কাছাকাছি পৌঁছে যায় সে!

হাতির এমন কাণ্ডে গবেষকরা বলছেন বিগত অন্তত ২৫ হাজার বছরে কোনও বন্য হাতি এমন কাণ্ড ঘটায়নি! এর পরে অবশ্য ২৩ ফেব্রুয়ারি মাখনা হাতিটিকে ফের উদ্ধার করা হয় জনপদ থেকে এবং আবারও ফিরিয়ে আনা হয় আন্নামালাইতে। ততক্ষণে সে যা ক্ষতি করার করে দিয়েছে।
এই তুমুল ব্যতিক্রমী ঘটনাটি যেন মানুষ-হাতি সংঘর্ষের এক বড় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। মানুষ নিজের প্রয়োজনে তার বাসস্থানে জনপদ গড়েছে, তাদের খাদ্য-বাসস্থান কেড়ে নিয়েছে। এর পরে তারা নিজেদের সীমা অতিক্রম করে জনপদে ঢুকে পড়লে তাদের নিজের জায়গা থেকে উদ্বাস্তু করে পাঠানো হয়েছে ভিন্ রাজ্যের অরণ্যে।

এমনটা বাঞ্ছনীয় নয় বলেই মত জয়রাম রমেশের। তিনি তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, এই সমস্যা সমাধানের জন্য তামিলনাড়ু, কেরল ও কর্নাটক-- এই তিন রাজ্যের মধ্যে আরও ভাল করে সমন্বয়সাধন প্রয়োজন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রকৃতি কখনওই রাষ্ট্রের সীমা মানে না। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমার অনেক ঊর্ধ্বে প্রকৃতি, পরিবেশ ও তার বিস্তার। তাকে রক্ষা করার জন্য, রংরক্ষণ করার জন্য পরিবেশ-বান্ধব আরও ভাল উপায় খুঁজে বার করতে হবে।
দেখুন সেই টুইট।
কর্নাটকে চালু হল ‘শক্তি’, নিখরচায় বাস চড়বেন মহিলারা! টুইট রাহুলের