
শেষ আপডেট: 19 February 2024 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় হওয়ার অভিযোগ আসছে। ভোটের আগে এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নবান্ন থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে দাবি করেন, এনআরসি করতে চেয়েই এমন কাজ করছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এই ঘটনা রাঁচি থেকে করানো হয়েছে আর তা করিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার বিধানসভা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপি বিধায়ক। সেখানে আধার প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বলেন, ''কোনও কার্ড ডিঅ্যাক্টিভেট হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর লোকজন লাগিয়ে টাকা দিয়ে রাঁচি থেকে এই কাজ করিয়েছেন।'' এর মধ্যে এক নামী পুলিশকর্তাও থাকতে পারেন, সন্দেহ করছেন শুভেন্দু। এই প্রেক্ষিতে আধার কর্তৃপক্ষের করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখান তিনি। বলেন, তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনও আধার লিঙ্ক বাতিল হয়নি। তবে কারোর যদি কোনও সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে তাঁদের কাছে অভিযোগ করতে পারে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট নম্বর দেওয়া হয়েছে।
যাদের আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়েছে তাদের রাজ্য বিকল্প কার্ড দেবে। এই কার্ড দিয়েই সবরকম সুযোগ সুবিধা পাবেন তাঁরা। নবান্ন থেকে ঠিক এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘোষণার পরই তাঁকে তুলোধনা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়ার নামেও মমতা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে সরব হন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে রাজ্য সরকারের নির্দেশনামায় আছে যে, আধার অ্যাকাউন্ট ছাড়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না। এদিকে সোমবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, বিকল্প কার্ড দেবেন। তাঁর প্রশ্ন, ''মমতা কি দেশের মধ্যে আরও একটা দেশ তৈরি করতে চান?'' শুভেন্দুর খোঁচা, সাধারণ মানুষকে মিথ্যে কথা বলে ভোটের জেতার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বাংলার ২১ লক্ষ মানুষ যারা ১০০ দিনের টাকা পাননি, তাঁদের বকেয়া মেটাবে রাজ্য। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ধর্না মঞ্চ থেকে সেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিকভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক হলেও পরে জানানো হয়, আগামী ১ মার্চ শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেবে রাজ্য সরকার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আধার কার্ড সমস্যা নিরসনে সোমবারই ঘোষণা করেছেন, মঙ্গলবার থেকেই রাজ্য একটি পোর্টাল চালু করছে। যাঁদের আধার নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছে এই পোর্টালে গিয়ে তাঁরা অভিযোগ জানাতে পারবেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যাঁদের আধার বাতিল হয়েছে তাঁদের আলাদা কার্ড দেবে রাজ্য। ব্যাঙ্ক বা অন্য কাজে কারও কোনও সমস্যা হবে না। মিলবে সরকারি পরিষেবাও।’’
গত কয়েকদিনে রাজ্যের নানা প্রান্তে বেশ কিছু মানুষের আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ডাকযোগে 'ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (ইউআইডিএআই) রাঁচির আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে চিঠি পেয়েছেন তাঁরা। এই নিয়ে গত রবিবার সিউড়ির এক সভা থেকে মমতা মারাত্মক অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, একাধিক জেলায় অনেকের আধার কার্ডের লিঙ্ক কেটে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষকে রাজ্য সরকারের সুবিধা-বঞ্চিত করার উদ্দেশেই এটা করা হচ্ছে।
তাঁর কথায়, নির্বাচনের আগে বেছে বেছে কেন্দ্র এমন পদক্ষেপ করছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক জেলায় এমন ঘটনা ঘটছে। মতুয়াদের সবচেয়ে বেশি আধার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তফসিলি এবং সংখ্যালঘুদের ওপরও অত্যাচার হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, অসমের মতো ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির ভাবনা নিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু তিনি বাংলায় এনআরসি করতে দেবেন না।