উত্তরবঙ্গের রাজনীতি নিয়েও বড় মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট দাবি, এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের বৌনি হবে না। বরং রাজ্যজুড়ে তাঁদের যে ভোট শতাংশ এবং আসন সংখ্যা কমবে, সেই কথাই জোর দিয়ে বলেন শুভেন্দু। কারণও ব্যাখ্যা করেন।
.jpg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 20 February 2026 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) আগে বৃহস্পতিবার কার্শিয়াঙের (Kurseong) রাজনৈতিক অঙ্কে বড় পরিবর্তন ঘটে গেছে। বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা (Vishnu Prasad Sharma) যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC)। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মন্তব্যে চড়েছে রাজনৈতিক পারদ।
শুভেন্দুর কটাক্ষ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে (Loksabha Elections 2024) রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন বিষ্ণুপ্রসাদ। প্রায় কুড়ি লক্ষ ভোটের লড়াইয়ে তাঁর প্রাপ্তি ছিল মাত্র পাঁচ হাজারের কিছু বেশি। সেই ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলনেতার দাবি, বিজেপি এখন শক্ত ভিত গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বিষ্ণুপ্রসাদের মতো কেউ দল ছাড়ায় তাতে কোনও বিরূপ প্রভাব পড়বে না।
উত্তরবঙ্গের রাজনীতি (North Bengal Politics) নিয়েও বড় মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট দাবি, এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের বৌনি হবে না। বরং রাজ্যজুড়ে তাঁদের যে ভোট শতাংশ এবং আসন সংখ্যা কমবে, সেই কথাই জোর দিয়ে বলেন শুভেন্দু। কারণও ব্যাখ্যা করেন।
শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূলের বহু নেতা আসন্ন নির্বাচনে টিকিট (MLA Ticket For WB Polls) না পাওয়ার আশঙ্কায় বিজেপির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। অন্তত ৫০ জন তৃণমূল নেতা বিজেপিতে আসতে চাইছেন বলেও দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। তবে তাঁদের সবাইকে গ্রহণ করা হবে না বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, বিজেপি দেখেশুনে সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষ্ণুপ্রসাদের দলবদল হঠাৎ নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব স্পষ্ট হচ্ছিল। বিধানসভায় বিভিন্ন সময়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন। দলীয় অবস্থানের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের অমিল নিয়েও আলোচনা ছিল।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কার্শিয়াঙ কেন্দ্র থেকে কি তৃণমূলের প্রার্থী হবেন বিষ্ণুপ্রসাদ? দলবদলের পর স্বাভাবিকভাবেই টিকিটের জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হওয়া এখন ঢের দেরি।
এদিকে, তৃণমূলে যোগ দিয়ে কার্শিয়ংয়ের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বিষ্ণুপ্রসাদ বলেন, “আপনারা যে রাজনৈতিক চিহ্নে আমাকে ভোট দিয়েছিলেন, সেই রায়ের মর্যাদা আমি আজ পর্যন্ত রেখেছি।”
নিজের দলবদলের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর দাবি, মানুষের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “আমার জনগণ আমার উপর বিশ্বাস করেছিলেন। তাঁদের স্বপ্ন— উন্নত সমাজ, উন্নত ভবিষ্যৎ, উন্নত প্রজন্ম। সেই লক্ষ্যেই আমি তৃণমূলে এলাম।”
পুরনো দল বিজেপি-কে আক্রমণ করে বিষ্ণুপ্রসাদের অভিযোগ, “যে দলে ছিলাম, কেন্দ্র থেকে টাকা পাঠায় না। কুণ্ঠা নিয়ে ছিলাম বিজেপিতে।” তাঁর দাবি, গত ১৭ বছর ধরে গোর্খা জনগণকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
তবে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রাজনীতিতে এই রদবদল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনও থেকেই শুরু হয়ে গেছে। তবে একথা স্পষ্ট, ভোটের আগে শিবিরবদল এবং পাল্টা কটাক্ষে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আরও তপ্ত হয়ে উঠতে চলেছে।