সামনেই বিহারের বিধানসভা ভোট। তার আগে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা (Voter List) সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। জারি হয়েছে একাধিক নতুন নির্দেশিকা। যা নিয়ে এত হইচই।

ভোটার লিস্ট নিয়ে মমতার পাল্টা শুভেন্দু
শেষ আপডেট: 26 June 2025 20:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনেই বিহারের বিধানসভা ভোট। তার আগে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা (Voter List) সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। জারি হয়েছে একাধিক নতুন নির্দেশিকা। যা নিয়ে বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর অভিযোগ, বিহার স্রেফ বাহানা, আসল নিশানা বাংলা। রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের টার্গেট করা হচ্ছে। একটা 'ঘাপলা' করা হচ্ছে।
মমতার সাংবাদিক বৈঠকের কিছু সময়ের ব্যবধানে পাল্টা আর একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ভোটার লিস্ট নিয়ে নানাবিধ অভিযোগের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, "রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাম বাদ চলে যাবে, সেই কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত ভয়।"
ঘটনা হল, নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল না, তাঁদের জন্মস্থানের প্রামাণ্য নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, প্রত্যেককেই দিতে হবে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার ‘সেল্ফ অ্যাটেস্টেড ডিক্লারেশন’।
কমিশনের আর এক নির্দেশ, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে যাঁরা জন্মেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে জন্মতারিখ এবং জন্মস্থানের প্রমাণপত্র যেমন জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট ইত্যাদি জমা দিতে হবে। আর যাঁদের জন্ম ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের পরে, তাঁদের বাবা-মায়ের পরিচয়পত্র-সহ অতিরিক্ত নথি দাখিল করতে হবে। একই নিয়ম কার্যকর হবে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের পরে জন্মানোদের জন্যও।
এই নিয়ম নিয়েই তীব্র আপত্তি তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন সরাসরি বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিহারে কিছু করবে না, কারণ ওখানে বিজেপি সরকার। আসল টার্গেট বাংলা। ওরা ভয় পেয়েছে।” তাঁর দাবি, পরিযায়ী শ্রমিকদের এবং বাংলার বহু সাধারণ নাগরিককে টার্গেট করতেই এই নীতি।
তিনি আরও বলেন, “কমিশন কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা না-করে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এটা একটা যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা। এখানে নির্বাচিত সরকার কোনও ক্রীতদাস নয়। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে।”
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, শুভেন্দুরা হয়তো ভাবছেন অনুপ্রবেশকারী মুসলিমরা এতে বিপাকে পড়বেন। কিন্তু এতে গ্রাম বাংলার অনেক হিন্দু ভোটারও বিপদে পড়তে পারেন।
এদিন নাম না করে কমিশনকে বিজেপির ‘প্রচারক’ বলেও কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ব্যাপারে শুভেন্দু বলেন, "নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক জায়গার বিরুদ্ধে উনি যেভাবে অভিযোগ করছেন, সেই অভিযোগের যদি ভিত্তি বা সত্যতা না থাকে তাহলে আমি কমিশনকে বলব, যিনি এ কথা বলছেন, তাঁর দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেওয়া হোক।"