দ্য ওয়াল ব্যুরো: কার হয়েছে ঋতুস্রাব? ব্যবহার করা স্যানিটারি প্যাড কে ফেলে গেছে হস্টেলের বাথরুমে? ‘দোষী’কে খুঁজে বার করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হস্টেলের ছাত্রীদের নগ্ন করে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ উঠল দু’জন ওয়ার্ডেনের বিরুদ্ধে। মুখে কুলুপ এঁটে নাকি সবটাই দেখেছেন কলেজের জনা কয়েক শিক্ষিকাও। ঘটনার জেরে গত এক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভে উত্তাল পঞ্জাবের অকাল ইউনিভার্সিটি চত্বর। বন্ধ পঠনপাঠন। ছাত্রীদের সঙ্গে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন ছাত্রেরাও।
বিক্ষোভ থামিয়ে কলেজের স্বাভাবিক অবস্থা ফেরাতে গত মঙ্গলবার অভিযুক্ত ওই দুই ওয়ার্ডেন-সহ চার জনকে বরখাস্ত করা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিংহও। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ছাত্রীদের হস্টেলের দু’জন ওয়ার্ডেন ছাড়াও দু’জন নিরাপত্তাকর্মীকেও বরখাস্ত করা হবে। সেই সঙ্গে বদলি করা হবে কলেজের দু’জন শিক্ষিকাকেও।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, হস্টেলের ওই দুই ওয়ার্ডেনের সঙ্গে ছাত্রীদের খিটিমিটি লেগেই থাকত। বিনা করণে তাঁরা মেয়েদের প্রায়ই বকাঝকা করতেন। গত সপ্তাহে হস্টেলের বাথরমের মেঝেতে ব্যবহার করা স্যানিটারি ন্যাপকিন পড়ে থাকতে দেখেন একজন ওয়ার্ডেন। তার পরই শুরু হয়ে যায় চিৎকার-চেঁচামেচি। ডেকে আনা হয় কলেজের কয়েকজন শিক্ষিকাকেও।
কলেজের এক ছাত্রীর কথায়, ওয়ার্ডেন প্রথমে হস্টেলের প্রত্যেক ঘরে ঘরে ঢুকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন কে ওই কাজ করেছে। কোনও ছাত্রীর কাছ থেকে উত্তর না পেয়ে আরও রেগে যান। এর পরই হস্টেলের সমস্ত ছাত্রীদের সার বেঁধে দাঁড় করিয়ে নগ্ন হতে বাধ্য করেন। ওই সময় কোন ছাত্রীর পিরিয়ড হয়েছে সেটাই জানতে চাইছিলেন তিনি। ছাত্রীদের অভিযোগ, এর প্রতিবাদ করায় তাদের মারধর করা হবে বলেও শাসানি দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন হস্টেলের আরও এক ওয়ার্ডেন ও দু’জন শিক্ষিকা।
অভিযুক্তদের তরফে কোনও বক্তব্য যদিও সামনে আসেনি, তবে খুব দ্রুত তাঁদের সাসপেন্ড করে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। পঞ্জাবের কলেজের মতোই ২০১৭ সালে লখনৌযের একটি আবাসিক স্কুলে একই রকম ভাবে ছাত্রীদের নগ্ন করিয়ে তল্লাশি চালিয়েছেন বস্টেলের ওয়ার্ডেন। সেই ঘটনা সামনে আসার পর প্রতিবাদে সামিল হয়েছিল লখনৌয়ের বেশ কয়েকটি আবাসিক স্কুল।