পার্থর সঙ্গে অতিবাম মেন্টরদের বৈঠক, তোলপাড় স্বাধীন ছাত্র সংগঠনগুলির অন্দরে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে রাজ্যের অতি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন মেন্টরের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রাথমিক ভাবে শিক্ষামন্ত্রী ও ছাত্র সংগঠন-- সমস্ত তরফেই অস্বীকার করা হয় এই বৈঠকের কথা।
শেষ আপডেট: 20 January 2020 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে রাজ্যের অতি বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন মেন্টরের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রাথমিক ভাবে শিক্ষামন্ত্রী ও ছাত্র সংগঠন-- সমস্ত তরফেই অস্বীকার করা হয় এই বৈঠকের কথা। কিন্তু পরে যদিও বৈঠকের কথা জানাজানি হতেই অনেকে বলছেন, যাঁদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে তাঁদের সঙ্গে বিশেষ ছেলেপুলে নেই। তাঁরা কতকটা স্বঘোষিত মেন্টরের মতোই।
কিন্তু সে যাই হোক না কেন, এই বৈঠকটি যে হয়েছে, সেটিই রাজ্য রাজনীতি মহল তোলপাড় করার মতো বিষয় ছিল। 'দ্য ওয়াল'-ই খবরটি প্রথম এবং একমাত্র প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার। খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে বিতর্কও কম হয়নি। অতিবাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের একাংশ দাবি করে এরকম কোনও বৈঠক হয়ইনি। খবরটিই নাকি 'ভুয়ো'। যদিও শিক্ষা দফতরের তরফে কোনও রকম আপত্তি বা প্রশ্ন ওঠেনি এই খবরের সত্যতা নিয়ে। দ্য ওয়ালও এই খবরটির বিষয়ে অনড়ই থাকছে, কারণ বৈঠকটি যে হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশই নেই।
কিন্তু সূত্রের খবর, এই বৈঠক ঘিরে বিতর্ক ও দ্বন্দ্বের ঘন মেঘ ঘনিয়েছে সংগঠনের অন্দরেই। একটি অংশ প্রাথমিক ভাবে বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করলেও, অন্য একটি অংশ বৈঠক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরে রীতিমতো ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। তাঁরা মূলত সংগঠনের পুরনো ও আদর্শবাদী সদস্য বলেই জানা গেছে।
অন্য একটি অংশ, যাঁরা মূলত এই বৈঠকের ব্যাপারে আগে থেকেই জ্ঞাত ছিলেন, তাঁরা 'গোপন' বৈঠক প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরে বিতর্কের আঁচ পেয়ে কেউ কেউ গা বাঁচাতে চাইছেন বলেও শোনা গিয়েছে। সব মিলিয়ে অতিবাম ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে নাড়াচাড়া পড়ে গিয়েছে। মূলত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন-অতিবাম ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে মতবিরোধ প্রকট হয়েছে।
এই অবস্থা দেখে অনেকেই বলছেন, এতে শেষমেশ সুবিধে হয়ে যেতে পারে এসএফআইয়ের। সামনেই যাদবপুরের ছাত্র ভোট। একাধিক কারণে এসএফআইয়ের অন্দরে নানা বিষয়ে চিড় ধরেছিল সম্প্রতি। কয়েক দিন আগে ৩১ জন নেতৃত্বস্থানীয় এসএফআই কর্মী ইস্তফা দিয়েছেন। কেউ কেউ স্বাধীন সংগঠনগুলির সঙ্গেও যোগাযোগও রাখছিলেন বলে খবর। তাঁরাও এই পরিস্থিতিতে পিছিয়ে আসছেন বলে জানা গিয়েছে।
যদিও এসএফআই এই ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে কিচ্ছু বলছে না। সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলছেন, তাঁরা চান তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী ঐক্য হোক। এটাই এখন সময়ের দাবি।