দ্য ওয়াল ব্যুরো : তালিবানের দাবি, পঞ্জশির উপত্যকা (Panjshir valley) তাদের দখলে এসেছে। জঙ্গিরা ওই দাবি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই পঞ্জশির থেকে প্রতিরোধ বাহিনী জানিয়ে দিল, তালিবান ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। প্রতিরোধ বাহিনী এখনও পঞ্জশিরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি দখল করে রয়েছে। সোমবার একটি সূত্রে জানা যায়, পঞ্জশিরের প্রাদেশিক রাজধানী দখল করে ফেলেছে তালিবান। তার আশপাশের জেলাগুলিও এখন তাদের দখলে।
পঞ্জশির উপত্যকায় তাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে প্রয়াত আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদের বাহিনী। সঙ্গে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লা সালেহ। গত কয়েকদিন ধরেই তালিবান ও স্থানীয় প্রতিরোধ বাহিনীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ছিল পঞ্জশির। দুপক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেখানে আঞ্চলিক মিলিশিয়া ও প্রাক্তন সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর অবশিষ্ট অংশ আহমেদ মাসুদের নেতৃত্বে লড়ছে। তালিবানের তিনটি সূত্রের দাবি, শুক্রবার তারা পঞ্জশির দখল করেছে। এক তালিবান কম্যান্ডার বলেছেন, আল্লাহর আশীর্বাদে গোটা আফগানিস্তান আমাদের নিয়ন্ত্রণে। বাধা সৃষ্টিকারীরা হটে গিয়েছে। পঞ্জশির এখন পুরোপুরি আমাদের দখলে। কিন্তু ওই দাবির কিছুক্ষণের মধ্যে আবার শোনা যায়, লড়াই তীব্রতর হয়েছে পঞ্জশিরে।
ইতিমধ্যে আমরুল্লা সালেহ একটি ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়েছেন বিবিসির কাছে। তাতে বলা হয়েছে, নিঃসন্দেহে আমরা কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছি। তালিবানি আগ্রাসন চলছে। আমরা মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছি। ঠেকিয়ে রেখেছি ওদের। প্রতিরোধ বহাল রয়েছে, চলবে। আমি নিজের মাটিতে, মাটির পক্ষে রয়েছি। তার মর্যাদা রক্ষা করে চলেছি। তাঁর ছেলে এবাদুল্লাহ সালেহ পঞ্জশির পতনের কথা উড়িয়ে বলেছেন, এটা মিথ্যা খবর।
আফগানিস্তানের ধর্মগুরুরা আবেদন জানিয়েছেন, তালিবান ও প্রতিরোধ বাহিনী আলোচনায় বসে বিরোধ মিটিয়ে নিক। ওই প্রস্তাবকে অভিনন্দন জানিয়েছে প্রতিরোধ বাহিনী। যদিও তালিবান আলোচনায় রাজি কিনা এখনও জানা যায়নি।
গত ১৫ অগাস্ট কাবুল দখল করলেও এখনও সরকার গঠন করতে পারেনি তালিবান। তারা চায় নতুন সরকার ঘোষণার আগেই পঞ্জশির থেকে বিরোধীদের নির্মূল করে ফেলতে। আফগানিস্তানে সোভিয়েত আক্রমণের সময় থেকেই স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখছে পঞ্জশির। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান ক্ষমতায় থাকার সময়েও পঞ্জশিরকে বশ মানানো যায়নি। কাবুল থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে ওই উপত্যকায় তালিবান বিরোধী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বিপুল পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র জমা করেছে বলে জানা যায়।