
শেষ আপডেট: 1 April 2023 08:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৪১ বছর বয়সেই তিনি ৫০০ সন্তানের (500 children) বাবা। সত্যিই কি ৫০০! যুবকের দাবি, 'আমার ঠিক মনে নেই। কমবেশি হতে পারে।' কিন্তু এ কীভাবে সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব, কারণ তিনি শিশুদের জন্মানোর জন্য শুক্রাণু দান (Sperm donor) করেন। আর এভাবেই নিজের শুক্রাণু দান করতে করতে এখন তাঁর সন্তান সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৫০০-র ঘরে। ঘটনাটি ঘটেছে নেদারল্যান্ডসে (Netherlands)। সেদেশের বাসিন্দা ওই যুবকের কথা প্রকাশ্যে এনেছে ডোনারকাইন্ড ফাউন্ডেশন নামের একটি সংস্থা। তারা মূলত শুক্রাণু দানের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎস খুঁজতে সহায়তা করে।
এই ডোনারকাইন্ড ফাউন্ডেশন সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানায়, ওই ব্যক্তি একজন ‘ক্রমিক দাতা’। তিনি দেশে ও বিদেশে অসংখ্য মহিলাকে শুক্রাণু দান করে বেড়ান। এদিকে নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য নির্দেশিকা অনুসারে, সর্বোচ্চ ২৫ জন সন্তানের বাবা হতে পারবেন একজন শুক্রাণুদাতা। অর্থাৎ, ২৫ জন মহিলাকে সন্তান ধারণে তিনি সাহায্য করতে পারেন। এর বেশিজনকে শুক্রাণু দান করায় নিষেধ রয়েছে।
তবে শুক্রাণু দানের মাধ্যমে এর চেয়ে বেশি সন্তানের জন্ম দিলে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করারও কোনও নিয়ম নেই। আর এই আইনের ফাঁক গলেই তিনি বর্তমানে ৫০০ সন্তানের পিতা। সেদেশে সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালগুলো প্রতিবার শুক্রাণু দানের জন্য দাতাকে ১০ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত দেয়। ফলত দেখা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তি ইতিমধ্যে শুক্রাণু দান করে অনেক টাকাই রোজগার করে ফেলেছেন।
সম্প্রতি ওই ব্যক্তিরই শুক্রাণুর সাহায্যে সন্তান ধারণ করা এক মহিলা তাঁর এই শুক্রাণু দান বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ওঁকে যেন ভবিষ্যতে আর শুক্রাণু দানের অনুমতি দেওয়া না হয়, এই আর্জি জানিয়ে সেদেশের এক আদালতে আবেদন করেছেন সেই মা। যদিও আদালত এ বিষয়ে ঠিক কী নির্দেশ দেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
জানা গিয়েছে, জোনাথন এম নামের ওই শুক্রাণুদাতাকে আজ থেকে ৬ বছর আগে ২০১৭ সালেই ডাচ সোসাইটি অব অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকলজি ভবিষ্যতে আর শুক্রাণু দান না করতে সতর্ক করে দিয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময়েই তিনি ১১টি হাসপাতালে শুক্রাণু দান করে ১০২ জন সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। এরপর তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সেসব বারণে কান দেননি। বরং নিয়মিত শুক্রাণু দান করে একপ্রকার রেকর্ড গড়েছেন।
জোনাথন নামের ওই ব্যক্তির দাবি, তিনি নেদারল্যান্ডসের একজন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী। তাই নিজের জেনেটিক অবদান সচল রাখার জন্যই এখনও দেশ-বিদেশ ঘুরে শুক্রাণু দান। ইতিমধ্যে নেটমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা শুরু হয়ে গিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের 'ভিকি ডোনার' বলেও ডাকা হচ্ছে তাঁকে। তবে এবার সেই ব্যক্তিকে শুক্রাণু দান বন্ধ করতে কড়া নির্দেশ দিলেন ডাক্তাররা।
তিন সন্তানের ওজন ১.২৮ কেজি! প্রি ম্যাচিওর বেবি হিসেবে ট্রিপলেট ভেঙেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড