
শেষ আপডেট: 7 October 2023 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রেতাযুগে পিতৃসত্য পালন করতে ১৪ বছরের জন্য বনবাসে গিয়েছিলেন রামচন্দ্র। এবার কলিযুগে বনবাস নয়, বাবার ইচ্ছা পূরণে বিশাল মন্দির গড়ল ছেলে। যার জন্য খরচ করেছেন কয়েক কোটি টাকা। এমনই এক ঘটনার নজির দেখা গিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার সুন্দরবন এলাকায়।
সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের উত্তর মোকামবেড়িয়া পঞ্চায়েতে রয়েছে উত্তর সোনাখালি গ্রাম। গ্রামের কিছুটা দূরে বয়ে চলেছে মাতলা নদী। এককালে ওই গ্রামেরই জমিদার ছিলেন মাখন মন্ডল। পরিবারের সদস্যদের কাছে মাখনবাবু একটি মন্দির তৈরির ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা অপূর্ণ রেখেই মৃত্যু হয় তাঁর। এরপরই বাবার মনবাসনা পূরণের জন্য মন্দির গড়ার পরিকল্পনা করেন ছেলে জয়দেব মন্ডল। প্রাথমিকভাবে তিনি ছোট মন্দির গড়বেন বলেই ঠিক করেছিলেন। যেমনটা ভাবা তেমনটা কাজ। ২০১৮ সালে উত্তর সোনাখালি গ্রামে মন্দির তৈরির কাজ শুরু করেন জয়দেববাবু। অবশেষে চলতি বছরে কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০ ফুট উচ্চতার মন্দির তৈরির কাজ শেষ হয়। ততদিনে যদিও জমিদার মাখন মন্ডল পরলোক গমন করেছেন।
এদিকে মাখনবাবু প্রয়াত হওয়ায় মন্দির নিয়ে মহাফাঁপরে পড়ে যায় মন্ডল পরিবার। কারণ মন্দিরে কোন দেবতার প্রতিষ্ঠা করা হবে সেবিষয়ে মাখনবাবু কাউকে কিছুই বলে যাননি। এরপর আলোচনা শুরু করেন মন্ডল পরিবারের ছয় সদস্য দিলীপ,জয়দেব,পঞ্চানন,মৃত্যুঞ্জয়,দেবল ও তাপস মন্ডল। পরিবারের সকল সদস্যদের সম্মতিতেই মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ ও কালি ঠাকুরের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
চলতি বছরের অক্ষয় তৃতীয়ায় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়। বর্তমাানে সেখানে রোজই বিপুল ভক্ত সমাগম হয়। মন্দিরের নামকরণ করা হয়েছে রাধারমণ গৌরীয় মঠ ও যোগমায়া কালিমাতা মন্দির। বিশালাকার ওই মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য সুদূর রাজস্থান থেকে পাথরের খোদাই করা বিগ্রহ নিয়ে আসা হয়েছে।
মন্দির প্রসঙ্গে মন্ডল পরিবারের সদস্য জয়দেব মন্ডল জানিয়েছেন, ‘বাবার ইচ্ছা ছিল একটি মন্দির তৈরি করার। তাঁর ইচ্ছা পূরণের জন্য ছোট্ট একটি মন্দির গড়ার কাজ শুরু করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত যে এত বড় মন্দির গড়তে পারব স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। বাবার স্বপ্ন কতটা সফল করতে পেরেছি জানি না। বাবা জীবিত থাকলে অনুভব করা সম্ভব হতো। সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় এমন বিশাল বড় মন্দির আর কোথাও নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।