
শেষ আপডেট: 7 March 2024 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জুয়া খেলার জন্য সামাজিক মাধ্যমে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে হইচই ফেললেন জামালপুরের এক লটারি বিক্রেতা। বিষয়টি জানার পর পুলিশ প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে তাঁর সম্পর্কে। ওই যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।
জামালপুর থানার বেত্রাগড় গ্রামের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শীতলা। বুধবার থেকে গ্রামের মন্দিরে শুরু হয়েছে শীতলাদেবীর পুজো। এই পুজো উপলক্ষে আগামী চারদিন মাতোয়ারা থাকবে বেত্রাগড় গ্রাম। পুজো উপলক্ষে ভক্তদের ঢল নেমেছে গ্রামে। বসেছে মেলাও। অভিযোগ এমন এক ঐতিহ্যশালী পুজো প্রাঙ্গনে ‘জুয়ার আসর’ বসবে বলে সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জানিয়েছে সুরজিৎ দাস নামে ওই যুবক। জামালপুর থানার শুড়েকালনা গ্রামে তাঁর বাড়ি।
অভিযোগ, বুধবার সামাজিক মাধ্যমে শীতলা দেবীর ছবি দিয়ে তিনি লিখেছেন, "আজ থেকে চারদিন বেত্রাগড়ে মায়ের থানে জুয়া চলবে। সকল জুয়া খিলাড়িকে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।" এমন পোস্ট দেখে জামালপুলের বাসিন্দারা স্তম্ভিত। এই পুজো যাঁরা বংশ পরম্পরার করে আসছেন সেই বংশের সন্তান পার্থ রায় বলেন, "শীতলা মায়ের পুজোয় জুয়ার আসর বসানোর স্পর্ধা দেখানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। কেউ আসেপাশে লুকিয়ে কী করছে জানি না। তবে শীতলা মায়ের থানে চারদিন জুয়ার আসর বসবে বলে যিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেছেন তার কঠিন শাস্তি হোক। এটাই আমি চাই।"
কী জন্যে এমন প্রচার, সুরজিতের কাছে তা জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে হকচকিয়ে যায়। পরে বলেন, "আমি জুয়া খেলি না। জুয়া খেলাও চালাই না। তবে যারা জুয়া খেলা চালায় তারা আমায় বলল, বুধবার থেকে শুরু করে চারদিন বেত্রাগড় শীতলাতলায় জুয়া খেলা চলবে। যারা জুয়া খেলা চালাবে তাদের অনুরোধেই আমি আমার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি লিখে পোস্ট করেছি। এখন বুঝতে পারছি এটা করে আমি বড় অপরাধ করে ফেলেছি।"
বর্ধমান সদর দক্ষিণ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, "আমি খোঁজ নিচ্ছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" বর্ধমান আদালতের বর্ষীয়ান আইনজীবী কমল দত্ত বলেন, সরকারের বিনা অনুমতিতে কেউ কোনও রকম জুয়া খেলা চালাতে পারে না। যদি চালায় তবে সেটা আইনত অপরাধ বলেই বিবেচিত হবে। সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে জুয়া খেলায় আমন্ত্রণ জানানো আরও বড় অপরাধ। ’আই টি’ এ্যাক্ট অনুযায়ীও এটা অপরাধ। পুলিশ নিশ্চয়ই এবিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।