
শেষ আপডেট: 25 February 2019 18:30
ন’বছরের লড়াইটা বড় কঠিন ছিল। বাধা-বিপত্তির পাহাড় ঠেলে এগিয়ে গেছেন স্নেহা ও তাঁর স্বামী কে পার্থিবরাজা। জানিয়েছেন, ২০১০ সালে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন সরকারি আধিকারিকরা। ফের ২০১৭ সালে ফের নিজের মতামত জানিয়ে আবেদন করেন স্নেহা। সরকারি সূত্রে খবর, স্নেহার স্কুল, কলেজের সমস্ত নথিতে কাস্ট ও রিলিজিয়নের কলম সবসময় ফাঁকা থেকেছে। যে কোনও আইনি কাগজে নিজের ধর্ম বা জাতের উল্লেখ কখনও করেননি স্নেহা। তাই সব দিক খতিয়ে দেখে তাঁর আবেদন মানতে রাজি হয় প্রশাসন।
‘‘বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম নাম মিলিয়ে আমার তিন মেয়ের নাম রেখেছি— আধিরাই নাসরিন, আধিলা আইরিন, আরিফা জেসি,’’ বললেন স্নেহা। জানালেন, নিজেদের এই পরম্পরা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নিজেদের তিন মেয়ের স্কুলের ফর্মে কোনও রকমের জাতি বা ধর্মের উল্লেখ করেননি তাঁরা। তাঁর শ্বশুরবাড়িতেও সকলে জাতপাতের বিরোধী। ছেলেবেলা থেকেই মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশে বড় হয়েছি, জানালেন স্নেহা। তাঁর কথায়, ‘‘আমার দুই বোনের নামও মুসলিম ও খ্রিষ্টান নামের সংমিশ্রণ, মুমতাজ সুরিয়া এবং জেনিফার।’’ সমাজ বদল করা কতটা সম্ভব হবে জানা নেই, তবে লড়াইটা এখানেই থামাতে চান না স্নেহা ও তাঁর স্বামী।