Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কারTCS Case: প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর টাকার টোপ! টিসিএসের অফিসে কীভাবে টার্গেট করা হত কর্মীদের‘ফোর্স ৩’ শুটিং জোরকদমে, পুরনো চরিত্রে ফিরছেন জন— নতুন চমক কারা?'মমতা চান না গোর্খারা শান্তিতে থাকুন, অধিকার ফিরে পান', দার্জিলিঙে ভিডিওবার্তা অমিত শাহেরগ্রাহকের পকেট বাঁচাতে ভারি খেসারত দিচ্ছে তেল কোম্পানিগুলি! প্রতিদিন লোকসান ১,৬০০ কোটিরইচ্ছেশক্তির বারুদে আগুন ধরাল ধোনির পেপ টক! নাইটদের বিঁধে দুরন্ত কামব্যাক নুর আহমেদেরময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে হত্যার প্রধান আসামিকে ১ বছরের অন্তর্বর্তী জামিন, কাঠগড়ায় বিচারপতিশয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার

‘বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিষ্টান নাম মিলিয়ে তিন মেয়ের নাম রেখেছি,’ দেশের প্রথম জাতি-ধর্মহীন নাগরিক স্নেহা চান বৈষম্যহীন সমাজ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতি-ধর্ম-বর্ণে কোনওদিনই বিশ্বাস ছিল না। সমাজের শৃঙ্খলে নিজেকে বাঁধেননি কখনও। জাতধর্মের বেড়াজাল ডিঙিয়ে বৃহত্তর সমাজ গঠনই এখন মূল লক্ষ্য স্নেহা পার্থিবরাজার। দেশের প্রথম জাতি-ধর্মহীন নাগরিকের স্বীকৃতি তাঁকে আগেই দিয়ে দিয়েছে

‘বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিষ্টান নাম মিলিয়ে তিন মেয়ের নাম রেখেছি,’ দেশের প্রথম জাতি-ধর্মহীন নাগরিক স্নেহা চান বৈষম্যহীন সমাজ

শেষ আপডেট: 25 February 2019 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতি-ধর্ম-বর্ণে কোনওদিনই বিশ্বাস ছিল না। সমাজের শৃঙ্খলে নিজেকে বাঁধেননি কখনও। জাতধর্মের বেড়াজাল ডিঙিয়ে বৃহত্তর সমাজ গঠনই এখন মূল লক্ষ্য স্নেহা পার্থিবরাজার। দেশের প্রথম জাতি-ধর্মহীন নাগরিকের স্বীকৃতি তাঁকে আগেই দিয়ে দিয়েছে সরকার। তবে লড়াইটা চালিয়ে যেতে চান স্নেহা। ‘‘আমার বাবা, মা, স্বামী, মেয়ে, আমার গোটা পরিবার জাত-ধর্মের ঠুনকো বিশ্বাসে বিশ্বাসী নয়। সরকারি শংসাপত্র শুধু একটা আইনি নথি মাত্র, আসলে আমরা সকলেই সামাজিক বৈষম্যের উর্ধ্বে,’’ স্নেহার চোখে গর্ব। তামিলনাড়ুর তিরুপাত্তুরের বাসিন্দা বছর পঁয়ত্রিশের স্নেহা পেশায় আইনজাবী। ছেলেবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন জাত-ধর্মের ভেদাভেদহীন সমাজের। ধর্মে বিশ্বাস করতে না বলে আত্মীয় মহলে অনেকেই ‘নাস্তিক’ বলে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতেন। তবে সে সবে কখনওই বিশেষ আমল দেননি স্নেহা। লড়াইটা শুরু হয় ন’বছর আগে। ২০১০ সালে নিজেকে ‘জাত-ধর্মহীন নাগরিক’ ঘোষণা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেন। প্রথমে সেই আবেদন খারিজও হয়ে যায়। চলতি বছরে তিরুপাত্তুরের তহশিলদার টি এস সাথিয়ামুর্তি স্নেহার হাতে তুলে দিলেন সরকারি শংসাপত্র।  সেখানে লেখা থাকে, স্নেহা কোনও জাতি, ধর্ম বা বর্ণের অন্তর্ভুক্ত নন। তিনিই ভারতের প্রথম নাগরিক যিনি এই সরকারি স্বীকৃতি পেলেন। ন’বছরের লড়াইটা বড় কঠিন ছিল। বাধা-বিপত্তির পাহাড় ঠেলে এগিয়ে গেছেন স্নেহা ও তাঁর স্বামী কে পার্থিবরাজা। জানিয়েছেন, ২০১০ সালে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন সরকারি আধিকারিকরা। ফের ২০১৭ সালে ফের নিজের মতামত জানিয়ে আবেদন করেন স্নেহা। সরকারি সূত্রে খবর, স্নেহার স্কুল, কলেজের সমস্ত নথিতে কাস্ট ও রিলিজিয়নের কলম সবসময় ফাঁকা থেকেছে। যে কোনও আইনি কাগজে নিজের ধর্ম বা জাতের উল্লেখ কখনও করেননি স্নেহা। তাই সব দিক খতিয়ে দেখে তাঁর আবেদন মানতে রাজি হয় প্রশাসন। ‘‘বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম নাম মিলিয়ে আমার তিন মেয়ের নাম রেখেছি— আধিরাই নাসরিন, আধিলা আইরিন, আরিফা জেসি,’’ বললেন স্নেহা। জানালেন,  নিজেদের এই পরম্পরা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নিজেদের তিন মেয়ের স্কুলের ফর্মে কোনও রকমের জাতি বা ধর্মের উল্লেখ করেননি তাঁরা। তাঁর শ্বশুরবাড়িতেও সকলে জাতপাতের বিরোধী। ছেলেবেলা থেকেই মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশে বড় হয়েছি, জানালেন স্নেহা। তাঁর কথায়, ‘‘আমার দুই বোনের নামও মুসলিম ও খ্রিষ্টান নামের সংমিশ্রণ, মুমতাজ সুরিয়া এবং জেনিফার।’’ সমাজ বদল করা কতটা সম্ভব হবে জানা নেই, তবে লড়াইটা এখানেই থামাতে চান না স্নেহা ও তাঁর স্বামী।

```