
সীতারাম ইয়েচুরি ও মহম্মদ সেলিম
শেষ আপডেট: 6 July 2024 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে বাংলায় দলের ফলাফলকে হতাশাব্যৎঞ্জক বলল সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি। ২০১৯-এর পর ২০২৪-এর লোকসভা ভোটেও বাংলায় একটি আসনেও জিততে পারেনি সিপিএম। ২৩ আসলে লড়াই করে মাত্র একটিতে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে দল। সেটি মুর্শিদাবাদ জেলার মুর্শিদাবাদ আসন। সেখানে প্রার্থী ছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদক তথা পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম।
তাৎপর্যপূর্ণ হল সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির নেতৃত্বাধীন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলায় দলের হতাশাব্যঞ্জক ফলের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির বাইনারি বা দ্বিমুখী লড়াইয়ের কৌশল, সাম্প্রদায়িক প্রচার, অর্থ ও পেশি শক্তি প্রয়োগ এবং চতুর্থ দফার ভোটের পর বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট ইত্যাদির উল্লেখের পাশাপাশি দলের ব্যর্থতা ও ভুলেরও উল্লেখ করে সমানভাবে।
ভোটের ফল প্রকাশের পর কলকাতায় দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সীতারাম। ভোটের ফল নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে বলেছিলেন, ‘বাংলায় আমরা নতুন পার্টি পেয়েছি। ফল খারাপ হলেও এখানে প্রচার খুব ভাল হয়েছে।’ সীতারাম নতুন পার্টি পেয়েছি বলতে তরুণ প্রার্থীদের আন্তরিক প্রয়াসের কথা বলতে চেয়েছিলেন। সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটির দলিলে বলা বলেছে, এই ব্যাপারে কাঙ্খিত ফল মেলেনি।
কেন্দ্রীয় কমিটি বলেছে, বাংলার বাস্তবতা অনুযায়ী বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করাই বামপন্থীদের কর্মসূচি ছিল। তবে বাস্তব পরিস্থিতিকেও এর সঙ্গে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন ছিল। যেহেতু লোকসভা ভোট, তাই জরুরি ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের তুলনায় নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও ধারালো করা। কিন্তু নিচুতলার প্রচারে তা প্রতিফলিত হয়নি। নিচুতলায় প্রচারে মোদীর তুলনায় মমতাকে আক্রমণই প্রাধান্য পেয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলার পার্টির এই দৃষ্টিভঙ্গি বা মানসিকতাকে ‘সমস্যা’ বলে উল্লেখ করে বলেছে, ২০২১ থেকে এই প্রবণতা চলছে।
লোকসভা ভোটের প্রচারে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার বাম-বিজেপি বোঝাপড়ার অভিযোগ করেছেন। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির মতে, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবুই তা বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়েছে কারণ, বিজেপি হেরেছে, এমন অনেকগুলি আসনে সিপিএম ভাল ভোট পেয়েছে। প্রসঙ্গত, বিরোধী দলনেতা, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, অন্তত ১২টি আসনে সিপিএম ভোট কেটে নেওয়ায় পদ্ম চিহ্নের প্রার্থীরা হেরে গিয়েছেন।
সিপিএমের বঙ্গ নেতৃত্ব না মানলেও কেন্দ্রীয় কমিটি মেনে নিয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলির কারণে তৃণমূল ইতিবাচক ভোট পেয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি বলেছে পার্টির বহু ইউনিট এবং কর্মীদের মুখে এই সব প্রকল্পকে ‘ভিক্ষা’, ‘ঘুষ’ বলে উপহাস শোনা গিয়েছে। এরফলেও গরিব মানুষ দলের কাছ থেকে সরে গিয়েছে।
রাজ্য কমিটি তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, লোকসভা ভোটে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বুথে দল পোলিং এজেন্ট দিতে পারেনি। রাজ্য কমিটি অভিযোগ করেছিল তৃণমূলের সন্ত্রাসের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটি সেখানে বলেছে, এটা আসলে রাজ্য পার্টির সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই ইঙ্গিত করে।