এই ওয়ার রুমে যেমন থাকবে পর্যাপ্ত ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট কানেকশন। তাছাড়াও কম্পিউটার জানা চার-পাঁচজন ছেলেকেও রাখা হবে এই রুমে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 31 October 2025 17:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR West Bengal) নিয়ে দলের করণীয় কী হবে সে ব্যাপারে সংগঠনে বার্তা দিতে শুক্রবার ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। রাজ্য, জেলা ও ব্লক স্তরের কয়েক হাজার নেতা ওই বৈঠকে (Abhishek Banerjee Virtual Meeting) যোগ দিয়েছেন তাতে। যেখানে বিএলএ (BLA) অর্থাৎ বুথ লেভেল এজেন্টদের কী করণীয় তা অক্ষরে অক্ষরে বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (TMC Abhishek Banerjee)।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই অভিষেক মোট ২৯৪টি ওয়ার রুম (War Room) খোলার নির্দেশ দিয়েছেন। যার তদারকি করবেন এলাকার বিধায়করা। তিনি এও জানিয়েছেন, যে ক্ষেত্রে বিধায়ক নেই সেখানে দায়িত্ব সামলাবেন ব্লক প্রেসিডেন্টরা। শুধু তাই নয়, অভিষেক নাকি পইপই করে বলে দিয়েছেন, এই ওয়ার রুমে যেমন থাকবে পর্যাপ্ত ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট কানেকশন, তেমনই কম্পিউটার জানা অন্তত চার-পাঁচজন ছেলেকেও সেখানে রাখতে হবে।
গত মঙ্গলবার থেকে দেশের ১১টি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাতেও ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন। ৪ নভেম্বর থেকে বাড়ি বাড়ি যাবেন বুথ লেবেল অফিসার বা বিএলও-রা। এবার এই বিএলওদের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকার জন্য দলের বুথ লেবেল এজেন্ট বা বিএলএ টুদের নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোেপাধ্যায়। এজন্য ৩ নভেম্বরের মধ্যে বিএলএ ওয়ান ও টুদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ভোটারদের কাছে এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে যাবেন কমিশন নিযুক্ত বুথ লেবেল অফিসাররা। দলীয় সূত্রে খবর, প্রতিটি নাগরিকের ওই ফর্ম পূরণের কাজে সহযোগিতা করার জন্য দলের বুথ লেবেল এজেন্টদের বিএলএ-দের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক।
বস্তুত, তৃণমূল প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বাংলার প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে দলের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও জানান, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার হার্ড কপির সঙ্গে কমিশনের প্রকাশিত ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার মধ্যে ব্যাপক অমিল পাওয়া গেছে।
দলের পক্ষ থেকে কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকার উদাহরণ তুলে ধরে অভিযোগ করা হয়, “এসআইআর-এর নাম করে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।” যে কারণে এসআইআর পর্বে কোনও ঢিলেঢালা রাখতে চাইছেন না অভিষেক।
এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে দলীয় কর্মীদের স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিজেপি ও কমিশন যাতে কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।” অভিষেকের নির্দেশ, প্রতিটি বুথে বিএলওদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে তৃণমূল কর্মীদের সতর্কভাবে কাজ করতে হবে।
রাজ্যের মোট গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। রয়েছে ২৮০০ ওয়ার্ড। বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিএলও-দের এই বাড়ি বাড়ি যাওয়া পর্বে প্রতিটি এলাকায় ক্যাম্প খুলতে হবে। সকাল ৯ টা থেকে ৫ টা ক্যাম্প খুলে রাখতে হবে। বিএলও-দের এক মিনিটের জন্য চোখের আড়াল হতে দেওয়া যাবে না।
ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন নিয়ে তৃণমূল এত তৎপর কেন? অভিষেকের কথায়, "কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি ভোটার তালিকায় চুপি চুপি কারচুপি করতে চাইছে। একজনও প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়, তাই এই উদ্যোগ।"