দ্য ওয়াল ব্যুরো : লকডাউন শিথিল করার পরে অর্থনীতিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। শনিবার এমনই মন্তব্য করলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। তাঁর মতে, অতিমহামারী নিয়ন্ত্রণে আসার পরে অর্থনীতির ক্ষেত্রে খুব সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থনীতি মাঝারি মেয়াদে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাঁর মতে কোভিড অতিমহামারীর ফলে অর্থনীতি ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে।
শনিবার এসবিআই ব্যাঙ্কিং অ্যান্ড ইকনমিক কনক্লেভে ভাষণ দেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর। তাঁর বক্তব্য, "অর্থনীতিকে সংকটের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কয়েকটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথাগত ও প্রথাবহির্ভূত দু'রকম পদক্ষেপই নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো ও নগদ টাকার যোগানে সংকট কাটানোর চেষ্টা হচ্ছে।"
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নরের দাবি, কোনও পদক্ষেপ নিলে কিছুদিন পরে বোঝা যায়, তার ফল কী হল। তবে আপাতত মনে হচ্ছে, আমরা যে পদক্ষেপ নিচ্ছি, তাতে ভালই ফল হয়েছে। তাতে আমরা উৎসাহিত হয়েছি। আরও নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছি।
তাঁর কথায়, করোনা অতিমহামারী চলতি বিশ্বব্যবস্থাকে আঘাত হেনেছে। বিশ্ব জুড়ে শ্রম ও পুঁজির যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের এক বড় সংখ্যক মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থাতেও পরিবর্তন এসেছে। সম্ভবত এই অতিমহামারী আমাদের অর্থনীতির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসাবে দেখা দিয়েছে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর বলেন, "আর্থিক বিকাশের ওপরে এখন আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। একইসঙ্গে টাকার বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্যও চেষ্টা করা হচ্ছে।" পরে তিনি বলেন, "ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি এখন কোভিড ১৯ অতিমহামারীর প্রভাব ঠেকাতে চেষ্টা করছে। তাদের মাধ্যমেই আরবিআইয়ের নানা পলিসি কার্যকর করা হচ্ছে।"
ভাষণের শেষে ব্যাঙ্কগুলিকে সতর্ক করে শক্তিকান্ত দাস বলেন, করোনা ঠেকাতে যে লকডাউন করা হয়েছিল, অর্থনীতিতে তার গভীর প্রভাব পড়েছে। লকডাউন শিথিল করার পরেও অর্থনীতি এখনও চাপমুক্ত হতে পারেনি। এই অবস্থায় ব্যাঙ্কের পুঁজি কমতে পারে। বাড়তে পারে অনাদায়ী ঋণ।