দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেইসময় ইস্টবেঙ্গলে রাজ করছেন জীবন-পল্টু। ওই দুই কর্তার দাপটে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জলও খাবে, এমন অবস্থা। তারকা ফুটবলারদের নিজেদের দখলে আনা থেকে শুরু করে ক্লাবের যে কোনও প্রশাসনিক বিষয়ে ওই দুই কর্তাই ছিলেন শেষ কথা।
কিন্তু একটি বিষয়ে জীবন-পল্টু কিছুই করতে পারেননি, সেটি হল লতা মঙ্গেশকরকে কলকাতায় আনার বিষয়ে। সেইসময় ওই দুই শীর্ষ কর্তা শরণাপন্ন হন সুপ্রকাশ গড়গড়ির। তিনিই বলেছিলেন, আমি লতাকে এনে দেখাব, এনেও ছিলেন।
সুপ্রকাশ গড়গড়িই লতাকে এনে চমক দিয়েছিলেন ১৯৮৮ সালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে। তাঁকে লাল হলুদ ক্লাবের পক্ষ থেকে আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয়। প্ল্যাটিনাম জুবিলিতে লতা ইস্টবেঙ্গলের হয়ে অনুষ্ঠান করেছিলেন। তাঁর সুরেলা কন্ঠে মাতোয়ারা হয়েছিল কল্লোলিনী।
লতার ফুটবলের প্রতি প্রেম ছিল। তিনি একবার রোভার্স কাপ দেখতে চলে গিয়েছিলেন কুপারেজ স্টেডিয়ামে। সেবার ইস্টবেঙ্গলই কাকতালীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। লাল হলুদ ক্লাবের প্রতি ছিল একটা অদ্ভুত টান। তিনি শচীন দেব বর্মণের অনুরোধে বহুবার ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দেখেছেন মাঠে থেকে।
রবিবার সন্ধ্যেতে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কর্তারা তাঁবুতে গিয়ে লতার ছবিতে মাল্যদান করেছেন। সকালে কোকিলকন্ঠীর জীবনাবসানের খবর পেয়েই ক্লাবের পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দু’দিন ধরে সেরকমই থাকবে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে কোনও কর্তা লতার পারলৌকিক কাজে মুম্বইতে যেতে পারেন, তেমনই জানা গিয়েছে রবিবার।