
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 29 September 2024 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিরাপত্তার প্রশ্নে তুলে শুক্রবার রাত থেকে কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে কর্মবিরতি শুরু করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। আস্থা ফেরাতে রবিবার প্রশাসনের তরফে হাসপাতালে নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হয়েছে।
এতদিন হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ৪ জন অফিসার, ১৬ জন কনস্টেবল এবং ৮ জন সিভিক ভলান্টিয়ার। রবিবার থেকে সেই সংখ্যা বাড়ানো হল। অতিরিক্ত আরও ৪ জন অফিসার এবং ১২ জন কনস্টেবল মোতায়েন করা হয়েছে। অর্থাৎ নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা বেড়ে হল ৪৪।
তবু পুলিশের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা। কেন?
রবিবার এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রশ্ন, "পুলিশ থেকেও তো শুক্রবার আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। পুলিশের সামনেই বলেছে, আরজি কর করে দেব!"
এই প্রসঙ্গে গত ১৪ অগস্ট মধ্য রাতে আরজি করে হামলার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন সাগরদত্তের জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাঁদের কথায়, "সেদিনও তো আরজি করে পুলিশ ছিল। কিন্তু হামলার সময় তো পুলিশকে দেখা যায়নি! তা হলে পুলিশের ওপর ভরসা রাখব কী করে?"
ঘটনার সূত্রপাত, শুক্রবার রাতে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে রোগীর পরিজনদের হাতে প্রহৃত হন জুনিয়র চিকিৎসক-সহ কয়েকজন স্বাস্থ্য কর্মী। অভিযোগ, শুধু মারধর করা নয়, 'আরজি কর করে দেওয়ার' হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় কর্তব্যরত এক জুনিয়র মহিলা ডাক্তারকে।
ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাত থেকেই সাগর দত্তে কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন সেখানকার জুনিয়র চিকিৎসকরা। শনিবার হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম-সহ দফতরের পদস্থ কর্তারা। আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সদস্যরা। পরে বাইরে এসে নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রশাসনকে চূড়ান্ত ডেডলাইন বেঁধে দেন তাঁরা।
জুনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সোমবার বিকেলের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশাসন নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না করতে পারলে ফের রাজ্যের সব ক'টি সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে পূর্ণ কর্মবিরতিতে নামবেন তাঁরা। সাগর দত্তে অবশ্য শুক্রবার রাত থেকে কর্মবিরতি চলছে।